০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবান্ধব পুলিশিং ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়: দর্শনা থানা পরিদর্শন করলেন নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সোমবার সন্ধ্যায় দর্শনা থানা পরিদর্শন করলেন জেলা পুলিশের নবাগত অভিভাবক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

আজ সোমবার ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যা ৬:০০ ঘটিকায় তিনি থানায় এসে পৌঁছান এবং এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি জনবান্ধব পুলিশিং-এর বার্তা স্পষ্ট করে দেন।

পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি
নবাগত পুলিশ সুপার দর্শনা থানায় পৌঁছালে থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে তিনি থানার কর্মরত অফিসার ফোর্সের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পুলিশ সুপার এই সময় থানার অফিস কক্ষ, ফোর্সের ব্যারাক এবং মেস সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। দাপ্তরিক কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ, অফিসারদের আবাসনের মান এবং খাবারের ব্যবস্থা দেখে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মহোদয় একটি বিশেষ ব্রিফিং-এ অংশ নেন এবং উপস্থিত সকল পুলিশ সদস্যকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশনার মূল সুর ছিল:

জনগণের সেবক: তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের বন্ধু ও আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করার এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।

মাদকমুক্ত সমাজ: জেলার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সকলকে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।

আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: তিনি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি ও নারী নির্যাতন-এর মতো অপরাধসমূহ নিয়ন্ত্রণে proactive (অগ্রক্রিয়) ভূমিকা পালনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন।

ফোর্সের কল্যাণ: তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যেন থানার মেসে উন্নতমানের ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, ফোর্সের ব্যারাক যেন সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেন।

ছুটি সংক্রান্ত: তিনি দায়িত্বশীল অফিসারদের নির্দেশনা দেন যেন চাহিদার প্রেক্ষিতে ফোর্সের ছুটি দ্রুত ও সহজভাবে মঞ্জুর করা হয়, যাতে তারা নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে পারে।

পুলিশ সুপার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল), চুয়াডাঙ্গা।
সুলতান মাহমুদ, অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত), দর্শনা থানা, চুয়াডাঙ্গা। এছাড়াও দর্শনা থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও পুলিশ ফোর্সের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার এই পরিদর্শন দর্শনা থানার কর্মরত পুলিশ দস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং জনমুখী পুলিশি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গার গৌরব: প্রথম বিজিবি অফিসার হিসেবে কমিশন পেলেন বেগমপুরের রাকিবুল ইসলাম

জনবান্ধব পুলিশিং ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়: দর্শনা থানা পরিদর্শন করলেন নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৯:০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সোমবার সন্ধ্যায় দর্শনা থানা পরিদর্শন করলেন জেলা পুলিশের নবাগত অভিভাবক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

আজ সোমবার ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যা ৬:০০ ঘটিকায় তিনি থানায় এসে পৌঁছান এবং এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি জনবান্ধব পুলিশিং-এর বার্তা স্পষ্ট করে দেন।

পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি
নবাগত পুলিশ সুপার দর্শনা থানায় পৌঁছালে থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে তিনি থানার কর্মরত অফিসার ফোর্সের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পুলিশ সুপার এই সময় থানার অফিস কক্ষ, ফোর্সের ব্যারাক এবং মেস সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। দাপ্তরিক কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ, অফিসারদের আবাসনের মান এবং খাবারের ব্যবস্থা দেখে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মহোদয় একটি বিশেষ ব্রিফিং-এ অংশ নেন এবং উপস্থিত সকল পুলিশ সদস্যকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশনার মূল সুর ছিল:

জনগণের সেবক: তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের বন্ধু ও আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করার এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।

মাদকমুক্ত সমাজ: জেলার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সকলকে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।

আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: তিনি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি ও নারী নির্যাতন-এর মতো অপরাধসমূহ নিয়ন্ত্রণে proactive (অগ্রক্রিয়) ভূমিকা পালনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন।

ফোর্সের কল্যাণ: তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যেন থানার মেসে উন্নতমানের ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, ফোর্সের ব্যারাক যেন সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেন।

ছুটি সংক্রান্ত: তিনি দায়িত্বশীল অফিসারদের নির্দেশনা দেন যেন চাহিদার প্রেক্ষিতে ফোর্সের ছুটি দ্রুত ও সহজভাবে মঞ্জুর করা হয়, যাতে তারা নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে পারে।

পুলিশ সুপার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল), চুয়াডাঙ্গা।
সুলতান মাহমুদ, অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত), দর্শনা থানা, চুয়াডাঙ্গা। এছাড়াও দর্শনা থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও পুলিশ ফোর্সের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার এই পরিদর্শন দর্শনা থানার কর্মরত পুলিশ দস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং জনমুখী পুলিশি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন