০৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

  • ইনকিলাব
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ১০ Time View

দেশের সব গণপরিবহনে আগামী ১ আগস্ট থেকে জিপিএস বা বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা সংযুক্ত করা এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর নতুন নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনে কার্যকর জিপিএস পাওয়া না গেলে নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গণপরিবহনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের আবেদন করার সময় জিপিএস ডিভাইস স্থাপনের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সচল রয়েছে এবং যানবাহনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে—এ বিষয়টিও প্রদর্শন করতে হবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জিপিএস ডিভাইসের সংযোগ ও কার্যকারিতা যাচাই করার পরই নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। অর্থাৎ শুধু ডিভাইস স্থাপন করলেই হবে না; সেটি কার্যকর ও সচল রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি মান ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া সংস্থাটির সরকারি ওয়েবসাইটেও ডিভাইসের নির্ধারিত কারিগরি বিবরণ পাওয়া যাবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট গণপরিবহনে নির্ধারিত মানের জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত ও সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই নিবন্ধন দেওয়া বা ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গণপরিবহনের অবস্থান, চলাচলের পথ ও গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বেপরোয়া চালনা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সহায়তা মিলতে পারে।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক, মালিক সমিতি ও প্রতিনিধিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সচল রাখার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছে। নতুন নির্দেশনা কার্যকর করতে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতাও চেয়েছে সংস্থাটি।

Tag :
এখন আলোচনায়

১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেশের সব গণপরিবহনে আগামী ১ আগস্ট থেকে জিপিএস বা বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা সংযুক্ত করা এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর নতুন নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনে কার্যকর জিপিএস পাওয়া না গেলে নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গণপরিবহনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের আবেদন করার সময় জিপিএস ডিভাইস স্থাপনের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সচল রয়েছে এবং যানবাহনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে—এ বিষয়টিও প্রদর্শন করতে হবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জিপিএস ডিভাইসের সংযোগ ও কার্যকারিতা যাচাই করার পরই নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। অর্থাৎ শুধু ডিভাইস স্থাপন করলেই হবে না; সেটি কার্যকর ও সচল রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি মান ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া সংস্থাটির সরকারি ওয়েবসাইটেও ডিভাইসের নির্ধারিত কারিগরি বিবরণ পাওয়া যাবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট গণপরিবহনে নির্ধারিত মানের জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত ও সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই নিবন্ধন দেওয়া বা ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গণপরিবহনের অবস্থান, চলাচলের পথ ও গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বেপরোয়া চালনা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সহায়তা মিলতে পারে।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক, মালিক সমিতি ও প্রতিনিধিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সচল রাখার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছে। নতুন নির্দেশনা কার্যকর করতে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতাও চেয়েছে সংস্থাটি।