১০:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আলোচিত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের মেয়ে ও আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুন স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে শাক তুলতে যায়। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি একাই ফিরে এসে মরিয়ম পরে আসছে বলে সেখান থেকে চলে যায়।

সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও স্থানীয়রা ভুট্টাক্ষেতে খোঁজ করতে গিয়ে আলী হোসেনের জমিতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

ঘটনার পর মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষায় তার ডিএনএ রিপোর্টও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেয়। মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ রিপোর্ট, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ও ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।

এ রায়কে স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনার হারে যুবকের আত্মহত্যা, পিতৃহারা দুই শিশুকে ঘিরে শোক

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:১৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আলোচিত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের মেয়ে ও আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুন স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে শাক তুলতে যায়। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি একাই ফিরে এসে মরিয়ম পরে আসছে বলে সেখান থেকে চলে যায়।

সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও স্থানীয়রা ভুট্টাক্ষেতে খোঁজ করতে গিয়ে আলী হোসেনের জমিতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

ঘটনার পর মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষায় তার ডিএনএ রিপোর্টও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেয়। মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ রিপোর্ট, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ও ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।

এ রায়কে স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।