
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ৮টি স্বর্ণের বারসহ মো. মিজানুর রহমান (৬১) নামের এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত মো. মিজানুর রহমান দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত সোলেমান মোল্লার ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের কাছে গোপন সংবাদের মাধ্যমে খবর আসে যে, মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণের একটি বড় চালান ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল উক্ত এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং নজরদারি বৃদ্ধি করে।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে এক ব্যক্তি মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়কে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে স্থানীয় সাক্ষী ও জনগণের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার কোমরে লুঙ্গির ভাঁজে টেপ দিয়ে বিশেষ কায়দায় মোড়ানো একটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটটি খুলে ভেতরে ৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯৩২ গ্রাম (৮টি বার) এবং এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। পাচারের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (ডায়ান DY50) এবং একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটককৃত মিজানুর রহমানকে স্বর্ণসহ দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া জব্দকৃত স্বর্ণ সরকারি কোষাগারে বা চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই নিয়মিত অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিজিবি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক, স্বর্ণ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার রোধে তাদের এই কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নাঈম উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা 








