১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী আমেজ: দুই আসনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে চুয়াডাঙ্গার রাজপথে আজ লক্ষ্য করা গেল রাজনৈতিক উত্তাপ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনেই উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। আজকের এই মনোনয়ন জমাদানকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়।

চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ এই আসনে ৫ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বিশাল নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল তার দলীয় অনুসারীদের নিয়ে এসে মনোনয়ন দাখিল করেন।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাসানুজ্জামান সজিব, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এনসিপির মোল্লা এহসান ফারুক তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসনে ভোটারদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই তাদের শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে।

বিজিএমইএ নেতা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই আসন থেকে বিএনপির হয়ে লড়ছেন। তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের জানান দেয়।

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ কংগ্রেসের নুর হাকিম, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. জহুরুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসের ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা কিছুটা বেশি।

চুয়াডাঙ্গা-১: মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা (২,৫৫,৫০৩) পুরুষ ভোটারের (২,৫১,৯৭১) চেয়ে বেশি। ফলে নারী ভোটাররাই এখানে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

চুয়াডাঙ্গা-২: এখানে মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৯ জন ভোটার রয়েছেন। নারী ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান, যা লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে।

মনোনয়নপত্র জমা শেষে প্রার্থীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের প্রার্থীরাই দাবি করেছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এলাকায় একটি রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরে এসেছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, “বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ১১ জন প্রার্থী সফলভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী আমেজ: দুই আসনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে চুয়াডাঙ্গার রাজপথে আজ লক্ষ্য করা গেল রাজনৈতিক উত্তাপ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনেই উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। আজকের এই মনোনয়ন জমাদানকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়।

চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ এই আসনে ৫ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বিশাল নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল তার দলীয় অনুসারীদের নিয়ে এসে মনোনয়ন দাখিল করেন।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাসানুজ্জামান সজিব, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এনসিপির মোল্লা এহসান ফারুক তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসনে ভোটারদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই তাদের শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে।

বিজিএমইএ নেতা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই আসন থেকে বিএনপির হয়ে লড়ছেন। তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের জানান দেয়।

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ কংগ্রেসের নুর হাকিম, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. জহুরুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসের ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা কিছুটা বেশি।

চুয়াডাঙ্গা-১: মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা (২,৫৫,৫০৩) পুরুষ ভোটারের (২,৫১,৯৭১) চেয়ে বেশি। ফলে নারী ভোটাররাই এখানে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

চুয়াডাঙ্গা-২: এখানে মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৯ জন ভোটার রয়েছেন। নারী ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান, যা লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে।

মনোনয়নপত্র জমা শেষে প্রার্থীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের প্রার্থীরাই দাবি করেছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এলাকায় একটি রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরে এসেছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, “বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ১১ জন প্রার্থী সফলভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”