
লালমনিরহাটের স্থানীয় সংসদ সদস্যের বসার জন্য একটি পরিদর্শন কক্ষ মেরামত ও ডেকোরেশন বাবদ সরকারের ১৬লক্ষ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। তবে এ ব্যয়ের অধিকাংশ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৭, লালমনিরহাট-০২ (আদিতমারী, কালীগঞ্জ) সংসদীয় আসনের আদিতমারী উপজেলায়।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় প্রান্তিক জনগণের সেবা দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদে একটি করে পরিদর্শন কক্ষ মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সরকার ৬লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়েই কক্ষটি সুসজ্জিত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকার। তবে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। লালমনিরহাট-০২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল সরকারের দেয়া ওই ৬লক্ষ টাকার বাহিরেও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিবি) প্রকল্পের অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে আরও ১০লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। প্রধানমন্ত্রী মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিলেও বিলাসীতায় মেতেছেন স্থানীয় সংসদ রোকন উদ্দিন বাবুল।
এদিকে জনপ্রতিনিধির বসার জন্য একটি কক্ষ মেরামতে ১৬লক্ষ টাকা ব্যয়ের তথ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে সীমিত সরকারি অর্থ জনগণের মৌলিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা। সেখানে একটি কক্ষ সংস্কারে এত বড় অঙ্কের ব্যয় কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ জনগন। জনগণের করের টাকার প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মনে করছেন তারা।
সোমবার (২০ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন কক্ষটি উদ্বোধন করেন সাংসদ রোকন উদ্দিন বাবুল। এরপর থেকে কক্ষটি মেরামতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। সরকারের একটি বরাদ্দ থাকার পরেও কেন আবারও সেখানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। তবে বরাদ্দের নামে অধিকাংশ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবী করছেন অনেকেই।
উপজেলা পরিষদে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবণের দ্বিতীয় তলায় (উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের কক্ষ) সাংসদের বসার জন্য “পরিদর্শন” নামের একটি কক্ষ সুসজ্জিত করা হয়েছে। কক্ষটিতে বসানো হয়েছে এসিসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র। তবে ওই পরিদর্শন কক্ষটিতে ১৬লক্ষ টাকা ব্যয়ের হিসাব কোনভাবেই মিলাতে পারছেন না কেউ। এটিকে হাস্যকর হিসেবে মনে করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় সাংসদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তিনি যে কোন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন। সে অনুযায়ী এ প্রকল্প দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস ও ১৭, লালমনিরহাট-০২ আসনের সাংসদ রোকন উদ্দিন বাবুল এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 















