০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়লো মোতালেবের স্বপ্ন: রঘুনাথপুরে মধ্যরাতের আর্তনাদে ভারী আকাশ

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের সহায়-সম্বল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে বৈদ্যুতিক তার থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মোঃ মোতালেব হোসেনের বসতবাড়ি ও ঘরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ নজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মোতালেব হোসেনের বাড়িতে গতকাল রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বৈদ্যুতিক তারে হঠাৎ আগুন ধরে যায়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও কোনো মালামাল রক্ষা করতে পারেননি।

 



​আগুনে মোতালেব হোসেনের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য, লেপ-তোশক ও পরিধেয় বস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনের অমূল্য সম্পদ একাডেমিক সার্টিফিকেটসমূহ এবং জমি-জমার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও ঘরে রক্ষিত নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

​আগুন লাগার সাথে সাথে রঘুনাথপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে ছড়াতে বাধা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দামুড়হুদা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই মোতালেব হোসেনের ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

​অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন। পুলিশের একটি চৌকস টিম নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।

ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

​বর্তমানে মোতালেব হোসেনের পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেন কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলেমেয়ের পড়ালেখার কাগজগুলো পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না। এখন আমরা কোথায় যাব, কী খাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

​স্থানীয় সচেতন মহল ও গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়লো মোতালেবের স্বপ্ন: রঘুনাথপুরে মধ্যরাতের আর্তনাদে ভারী আকাশ

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের সহায়-সম্বল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে বৈদ্যুতিক তার থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মোঃ মোতালেব হোসেনের বসতবাড়ি ও ঘরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ নজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মোতালেব হোসেনের বাড়িতে গতকাল রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বৈদ্যুতিক তারে হঠাৎ আগুন ধরে যায়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও কোনো মালামাল রক্ষা করতে পারেননি।

 



​আগুনে মোতালেব হোসেনের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য, লেপ-তোশক ও পরিধেয় বস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনের অমূল্য সম্পদ একাডেমিক সার্টিফিকেটসমূহ এবং জমি-জমার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও ঘরে রক্ষিত নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

​আগুন লাগার সাথে সাথে রঘুনাথপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে ছড়াতে বাধা দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দামুড়হুদা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই মোতালেব হোসেনের ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

​অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন। পুলিশের একটি চৌকস টিম নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।

ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

​বর্তমানে মোতালেব হোসেনের পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেন কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলেমেয়ের পড়ালেখার কাগজগুলো পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না। এখন আমরা কোথায় যাব, কী খাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

​স্থানীয় সচেতন মহল ও গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।