
স্ট্যাফ রিপোর্টার, চুুয়াডাঙ্গা।
আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ রোজ শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে মোটরসাইকেল বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতারা প্রস্তুতি শুরু করে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনালে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পুরাতন মোটরসাইকেল হাটটিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ পুরোনো মোটরসাইকেলের বাজার হিসেবে পরিচিত।
এটি শুধু চুয়াডাঙ্গার জন্যই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে এক বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার এখানে বিশাল পরিসরে পুরোনো মোটরসাইকেল কেনা-বেচা হয়।
দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে এই হাটের কার্যক্রম। এই অল্প সময়ের মধ্যে এখানে অন্তত ১ থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। হাটের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,১০০ টি মোটরসাইকেল বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি বাইক সফলভাবে বিক্রি হয়ে যায়।
আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের সন্নিকটে পৌর বাস টার্মিনালের এই হাটটি সারি সারি করে সাজানো পুরোনো মোটরসাইকেল এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকে। বিক্রেতারা নিজেদের ব্যবহৃত অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন এবং ক্রেতারা সেগুলো ঘুরে দেখেন ও দর-কষাকষি করেন।
এই হাটে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা দামের বিভিন্ন মডেলের বাইক পাওয়া যায়।
উপস্থিতি: ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যেমন পাবনা, মেহেরপুর, দামুড়হুদা ইত্যাদি দূর-দূরান্তের জেলা থেকে ভিড় জমান।
আলমডাঙ্গার স্থানীয় ব্যবসায়ী শিমুল হোসেনের মতে, এই হাটে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিরাপদ। হাট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি লেনদেনে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেন এবং কোনো সমস্যা হলে তা নিজেদের দায়িত্বে সমাধান করার আশ্বাস দেন।
পাবনা থেকে আসা ক্রেতা সেলিম রেজা জানান, “আমি আজ একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল কিনলাম। হাট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিক্রয় রশিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝে নিয়েছি। এখানে দামে সাশ্রয় পাওয়া যায়।”
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাস টার্মিনালে এই পুরাতন মোটরসাইকেলের হাটটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
এটি আলমডাঙ্গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর ভ্যাটসহ হাটটির ইজারা মূল্য ছিল ৯১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা কুলপালা গ্রামের ব্যবসায়ী আলমগীর কবীর শিপলু গ্রহণ করেছেন।
হাটকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০ জন স্থায়ী ব্যাপারী নিয়মিত ব্যবসা করছেন। এছাড়া অনেক সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাও এই হাটে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রি বা নতুন বাইক ক্রয় করতে আসেন।
ইজাদার আলমগীর কবীর শিপলু জানান, “ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন তার সব ব্যবস্থা আমরা করে থাকি। আমরা প্রতি মোটরসাইকেল থেকে ৫০০-৭০০ টাকা খাজনা আদায় করে থাকি।”
চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক এই হাটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জেলার বৃহত্তম উপজেলা আলমডাঙ্গায় প্রায় এক যুগ ধরে এই পুরোনো মোটরসাইকেলের হাটটি বসে। এটি একটি ব্যতিক্রমী হাট, যেখানে শুধু পুরোনো মোটরসাইকেল কেনাবেচা হয়। এই হাটের লেনদেন ও ব্যবসায়িক কাঠামো স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।”
দামুড়হুদা উপজেলার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ তার দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “এত বড় পুরোনো মোটরসাইকেলের হাট বাংলাদেশের আর কোথাও আমি দেখিনি। প্রতি হাটে আমি ৮-১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আসি এবং এর মধ্যে ৫-৬টি বিক্রি করতে পারি।”
প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসা এই হাটে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায়, এটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 

















