০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পাওয়ারটিলারের ব্রেক ফেল, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত ৪: দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার বিকাল ৪ টার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামের মেইন রোডে বাটকেমারীর মোড়ে

একটি দ্রুতগতি সম্পন্ন পাওয়ারটিলারের ব্রেক ফেল করে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোট ৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় ৪ টার দিকে মুজিবনগর থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি পাওয়ারটিলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারটিলারটির চালক ছিলেন মুজিবনগরের তারানগর, আনন্দবাস এলাকার বাসিন্দা সাকিব হোসেন।

চালক সাকিব হোসেন জানান, বাটকেমারীর মোড়ের কাছাকাছি আসার সময় পাওয়ারটিলারটির ব্রেক অকেজো হয়ে যায় এবং তিনি কোনোভাবেই এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

                                                                  পাওয়ারটিলারের ড্রাইভার

অনিয়ন্ত্রিত পাওয়ারটিলারটি কানাইডাঙ্গা গ্রামের মেইন রোডের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের দিকে ঢুকে পড়ে। দোকানে বসে চা পান করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় চায়ের দোকানে বসে থাকা জাফর আলী এবং হানিফ আলী গুরুতরভাবে আহত হন। এছাড়া পাওয়ারটিলার চালক সাকিব হোসেন ও পাওয়ারটিলারের সহকারীও সামান্য আঘাত পান।

আহত জাফর আলী ও হানিফ আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় জনগণ এবং অন্যান্যদের সহায়তায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

সৌভাগ্যবশত, দুজনের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্যান্য আহতদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উভয় পক্ষের লোকজনেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই ঘটনাটি আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা যায়, পাওয়ারটিলারের মালিক ও চালক আহতদের চিকিৎসার খরচ এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় এ বিষয়ে আর কোনো আইনগত অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। নিজেদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়া হয়েছে।

বাটকেমারীর মোড় এলাকাটি প্রায়শই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, “এই মোড়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষজনকে অবশ্যই সাবধানে চলাচল করতে হবে।”

এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মূল দাবি, এই মোড়ে যেন গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিট (স্পিড ব্রেকার) বসানো হয়, যাতে দ্রুতগামী যানবাহনগুলো গতি কমাতে বাধ্য হয় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পাওয়ারটিলারের ব্রেক ফেল, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত ৪: দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার বিকাল ৪ টার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামের মেইন রোডে বাটকেমারীর মোড়ে

একটি দ্রুতগতি সম্পন্ন পাওয়ারটিলারের ব্রেক ফেল করে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোট ৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় ৪ টার দিকে মুজিবনগর থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি পাওয়ারটিলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারটিলারটির চালক ছিলেন মুজিবনগরের তারানগর, আনন্দবাস এলাকার বাসিন্দা সাকিব হোসেন।

চালক সাকিব হোসেন জানান, বাটকেমারীর মোড়ের কাছাকাছি আসার সময় পাওয়ারটিলারটির ব্রেক অকেজো হয়ে যায় এবং তিনি কোনোভাবেই এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

                                                                  পাওয়ারটিলারের ড্রাইভার

অনিয়ন্ত্রিত পাওয়ারটিলারটি কানাইডাঙ্গা গ্রামের মেইন রোডের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের দিকে ঢুকে পড়ে। দোকানে বসে চা পান করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় চায়ের দোকানে বসে থাকা জাফর আলী এবং হানিফ আলী গুরুতরভাবে আহত হন। এছাড়া পাওয়ারটিলার চালক সাকিব হোসেন ও পাওয়ারটিলারের সহকারীও সামান্য আঘাত পান।

আহত জাফর আলী ও হানিফ আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় জনগণ এবং অন্যান্যদের সহায়তায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

সৌভাগ্যবশত, দুজনের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্যান্য আহতদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উভয় পক্ষের লোকজনেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই ঘটনাটি আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা যায়, পাওয়ারটিলারের মালিক ও চালক আহতদের চিকিৎসার খরচ এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় এ বিষয়ে আর কোনো আইনগত অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। নিজেদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়া হয়েছে।

বাটকেমারীর মোড় এলাকাটি প্রায়শই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, “এই মোড়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষজনকে অবশ্যই সাবধানে চলাচল করতে হবে।”

এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মূল দাবি, এই মোড়ে যেন গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিট (স্পিড ব্রেকার) বসানো হয়, যাতে দ্রুতগামী যানবাহনগুলো গতি কমাতে বাধ্য হয় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।