০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন জোরদারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারে ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় আজ (বৃহস্পতিবার) ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সভাটির আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে, যেখানে জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ।

তাঁর বক্তব্যে মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর জোর দেন:

ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহের বিষয়ে কঠোর নজরদারি।

ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা মূল্য কারসাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

বাজার মনিটরিং: নিয়মিত বাজার তদারকি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

স্বচ্ছ সম্পর্ক: ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ এবং আস্থার সম্পর্ক স্থাপন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ শুধু অধিদপ্তরের একক দায়িত্ব নয়, বরং ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব।”

তিনি ভোক্তাদের সচেতনভাবে কেনাকাটা এবং প্রতারিত হলে অভিযোগ দায়েরের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাজার কমিটির সদস্য এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি কার্যকরভাবে মাঠে বাস্তবায়িত হলে:

ন্যায্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।

ক্রেতাদের হয়রানি হ্রাস: ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তি দূর হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আইনের প্রয়োগে বাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভার সভাপতি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, তাঁর বক্তব্যে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

সভা শেষে প্রধান অতিথি ফারুক আহম্মেদ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বিস্তারে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিককে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে দৃঢ় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জেলার ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও উন্নত ও ভোক্তাবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন জোরদারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারে ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় আজ (বৃহস্পতিবার) ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সভাটির আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে, যেখানে জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ।

তাঁর বক্তব্যে মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর জোর দেন:

ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহের বিষয়ে কঠোর নজরদারি।

ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা মূল্য কারসাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

বাজার মনিটরিং: নিয়মিত বাজার তদারকি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

স্বচ্ছ সম্পর্ক: ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ এবং আস্থার সম্পর্ক স্থাপন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ শুধু অধিদপ্তরের একক দায়িত্ব নয়, বরং ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব।”

তিনি ভোক্তাদের সচেতনভাবে কেনাকাটা এবং প্রতারিত হলে অভিযোগ দায়েরের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাজার কমিটির সদস্য এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি কার্যকরভাবে মাঠে বাস্তবায়িত হলে:

ন্যায্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।

ক্রেতাদের হয়রানি হ্রাস: ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তি দূর হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আইনের প্রয়োগে বাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভার সভাপতি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, তাঁর বক্তব্যে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

সভা শেষে প্রধান অতিথি ফারুক আহম্মেদ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বিস্তারে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিককে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে দৃঢ় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জেলার ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও উন্নত ও ভোক্তাবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।