০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের মাস্কেট্রি অনুশীলনের সময় চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলিবিদ্ধ যুবক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের চলমান বাৎসরিক মাস্কেট্রি অনুশীলনের সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাবু (৩১) নামের এক ব্যক্তি।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হায়দারপুর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় তার বুকে গুলি লাগে।

​আহত বাবু চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন পারটেক্স মিস্ত্রি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের বাৎসরিক মাস্কেট্রি অনুশীলন–২০২৫ গত ৯, ১০ ও ১১ ডিসেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি), ডিঙ্গেদাহ-এর ফায়ারিং বাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সূত্র দাবি করেছে, অনুশীলন চলাকালীন সময় ফায়ারিং রেঞ্জের পেছনে এবং আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং নিরাপদ স্থানে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছিল।
​তবে এই সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

​স্থানীয় যুবক রাশেদ বলেন, “কোন ধরনের মাইকিং বা সতর্ক ছাড়ায় পুলিশের মাস্কেট্রি অনুশীলন চলছিল।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগেও পাঁচ বছর আগে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আজ আমার ভাই বাবু ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার পথে চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলিবিদ্ধ হয়। আমাদের দাবি, এখানে কোন ধরনের ফায়ারিং না করার।”

​চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ শিল্পব ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আজকে প্রশাসন এ ঘটনাটি তড়িঘড়ি করে চাপানোর চেষ্টা করছে। গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এই ফায়ারিং এ ৩/৪ জন গুলিবিদ্ধের ঘটনায় দুজন মারা গেছেন। আজ আমার ছোট ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা এই সমস্যাটি দ্রুত সমাধানে উচ্চ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

​চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডা. এহসানুল হক তন্ময় নিশ্চিত করেন যে, এক্স-রের পর বাবুর বুকের বাম পাশে গুলি পাওয়া যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। ডা. তন্ময় জানান, “এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং আশংকামুক্ত রয়েছে।”

​৬ বিজিবির নায়েক সুবেদার কামরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “৬ বিজিবির ফায়ার বাট জেলা পুলিশের জন্য ৯ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। সকাল থেকে ফায়ার চলমান ছিল। এ সময় ফায়ারে একজন বেসামরিক ব্যক্তি বাবুর বুকে গুলি লাগে।”

​চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (-৬ বিজিবি) পরিচালক, লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুলিশের ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান ২ হাজার গজ দূরে। আসলে এখানে হাজার হাজার রাউন্ড ফায়ার হয়েছে। এটি একটি দূর্ঘটনা।”

​চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, “চুয়াডাঙ্গা ৬-বিজিবির ফায়ারিং রেঞ্জে জেলা পুলিশের বাৎসরিক ফায়ারিং চলছিল। আমরা শুনেছি এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমি হাসপাতালে গিয়েছি। তিনি আশংকামুক্ত আছেন বলে জেনেছি।”

​দুর্ঘটনার কারণ এবং ফায়ারিং রেঞ্জের নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি খতিয়ে দেখতে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের মাস্কেট্রি অনুশীলনের সময় চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলিবিদ্ধ যুবক

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের চলমান বাৎসরিক মাস্কেট্রি অনুশীলনের সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাবু (৩১) নামের এক ব্যক্তি।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হায়দারপুর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় তার বুকে গুলি লাগে।

​আহত বাবু চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন পারটেক্স মিস্ত্রি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের বাৎসরিক মাস্কেট্রি অনুশীলন–২০২৫ গত ৯, ১০ ও ১১ ডিসেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি), ডিঙ্গেদাহ-এর ফায়ারিং বাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সূত্র দাবি করেছে, অনুশীলন চলাকালীন সময় ফায়ারিং রেঞ্জের পেছনে এবং আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং নিরাপদ স্থানে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছিল।
​তবে এই সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

​স্থানীয় যুবক রাশেদ বলেন, “কোন ধরনের মাইকিং বা সতর্ক ছাড়ায় পুলিশের মাস্কেট্রি অনুশীলন চলছিল।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগেও পাঁচ বছর আগে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আজ আমার ভাই বাবু ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার পথে চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলিবিদ্ধ হয়। আমাদের দাবি, এখানে কোন ধরনের ফায়ারিং না করার।”

​চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ শিল্পব ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আজকে প্রশাসন এ ঘটনাটি তড়িঘড়ি করে চাপানোর চেষ্টা করছে। গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এই ফায়ারিং এ ৩/৪ জন গুলিবিদ্ধের ঘটনায় দুজন মারা গেছেন। আজ আমার ছোট ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা এই সমস্যাটি দ্রুত সমাধানে উচ্চ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

​চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডা. এহসানুল হক তন্ময় নিশ্চিত করেন যে, এক্স-রের পর বাবুর বুকের বাম পাশে গুলি পাওয়া যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। ডা. তন্ময় জানান, “এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং আশংকামুক্ত রয়েছে।”

​৬ বিজিবির নায়েক সুবেদার কামরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “৬ বিজিবির ফায়ার বাট জেলা পুলিশের জন্য ৯ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। সকাল থেকে ফায়ার চলমান ছিল। এ সময় ফায়ারে একজন বেসামরিক ব্যক্তি বাবুর বুকে গুলি লাগে।”

​চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (-৬ বিজিবি) পরিচালক, লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুলিশের ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান ২ হাজার গজ দূরে। আসলে এখানে হাজার হাজার রাউন্ড ফায়ার হয়েছে। এটি একটি দূর্ঘটনা।”

​চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, “চুয়াডাঙ্গা ৬-বিজিবির ফায়ারিং রেঞ্জে জেলা পুলিশের বাৎসরিক ফায়ারিং চলছিল। আমরা শুনেছি এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমি হাসপাতালে গিয়েছি। তিনি আশংকামুক্ত আছেন বলে জেনেছি।”

​দুর্ঘটনার কারণ এবং ফায়ারিং রেঞ্জের নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি খতিয়ে দেখতে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।