
মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন ৪৯৫ জন প্রশিক্ষিত সদস্য, সুরক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ সফটওয়্যার
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং ঈদ-পরবর্তী পরিবেশ সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। চামড়ার অপচয় রোধ ও জনস্বাস্থ্যে তাদের এই স্বেচ্ছাসেবী ও সময়োপযোগী ভূমিকা সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা যায়, সেজন্য সদর উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আগেই বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। গত ২৪ মে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে বিসিকের (BSCIC) মাধ্যমে ভাতাভোগী ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, সঠিক উপায়ে লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণের বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের কার্যক্রমকে সফল করতে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন করে মোট ৪৯৫ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যের একটি কর্মঠ তালিকা তৈরি করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনের জন্য আধুনিক ‘এসটিডিএমএস’ (STDMS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সদস্য নিয়োজিত করা হয়।
মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা ও তদারকি:
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সদস্যরা ঈদের দিন সকাল থেকেই সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েন। তারা স্থানীয় কোরবানিদাতাদের চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করেন। চামড়া নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে কীভাবে এবং কী পরিমাণে লবণ দিতে হবে, তা তারা মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে দেখিয়ে দেন।
একই সাথে পশুর বর্জ্য থেকে যেন কোনো দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সেজন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার নিশ্চিত করেন তারা। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয়, সে বিষয়টিও কঠোরভাবে তদারকি করা হয়। এছাড়া দেশের এই মূল্যবান জাতীয় সম্পদ যেন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পাচার না হতে পারে এবং কোনো সিন্ডিকেট কৃত্রিম উপায়ে চামড়ার দাম কমিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন ও সতর্ক করা হয়। স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করেন বাহিনীর সদস্যরা।

কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ:
পুরো কার্যক্রমটি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ আবিদুল হাসান শিমুল। তিনি উৎসবের দিনটিতেও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে স্বেচ্ছাসেবীদের দিকনির্দেশনা দেন এবং সার্বিক কাজের তদারকি করেন।
জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। সচেতন মহল মনে করছেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আনসার ও ভিডিপির এই নিঃস্বার্থ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ চামড়া অপচয় রোধে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি ঈদ-পরবর্তী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতেও দারুণ কাজ করেছে। দেশের প্রতি তাদের এই দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা সত্যিই অনুকরণীয়।
স্টাফ রিপোর্টার 

















