০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ রাতে যেসব আমল করতেন

রাতের শেষ প্রহর। চারপাশ নিস্তব্ধ, দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়। এই সময়টুকু ছিল প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য বিশেষ এক ইবাদতের সময়— যেখানে তিনি তার রবের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এই নীরব মুহূর্তগুলোতে লুকিয়ে আছে রহমত, মাগফিরাত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ রাতের আমলসমূহ

১. তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়

নবী (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন, যা তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ

‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর—এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত (ইবাদত)।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৭৯)

২. দীর্ঘ কিয়াম (দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত)

তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, কখনো এত দীর্ঘ হতো যে পা ফুলে যেত। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘তিনি এত দীর্ঘ কিয়াম করতেন যে তাঁর পা ফুলে যেত।’ (বুখারি ১১৩০, মুসলিম ২৮২০)

৩. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া

শেষ রাতে তিনি বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করতেন। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দেন—

وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

‘তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ১৮)

৪. তাসবিহ ও জিকির

রাতের শেষ সময়ে তিনি আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকতেন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—

فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ النُّجُومِ

‘নক্ষত্র অস্ত যাওয়ার সময় তুমি তোমার রবের তাসবিহ পাঠ কর।’ (সুরা আত-তূর: আয়াত ৪৯)

৫. উম্মতের জন্য দোয়া

তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, তার উম্মতের জন্যও কাঁদতেন এবং দোয়া করতেন। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘আমার উম্মত, আমার উম্মত’— বলে তিনি কাঁদতেন। (মুসলিম ২০২)

৬. ফজরের আগে বিতর নামাজ

তাহাজ্জুদের পর তিনি বিতর নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘তোমরা রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর আদায় কর।’ (বুখারি ৯৯৮, মুসলিম ৭৫১)

রাতের শেষ প্রহর শুধু একটি সময় নয়— এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। মানুষ যখন ঘুমে অচেতন, তখন যারা আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তাদের মর্যাদা আলাদা। নবী (সা.)-এর এই আমলগুলো আমাদের জন্য পথনির্দেশনা— কিভাবে আমরা দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে পারি। আজ থেকেই চেষ্টা হোক—অন্তত কয়েক মিনিট হলেও সেই নীরব রাতকে ইবাদতে রাঙানোর। কারণ, এই সময় আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন, ক্ষমা করেন, এবং ভালোবাসা বর্ষণ করেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস

রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ রাতে যেসব আমল করতেন

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাতের শেষ প্রহর। চারপাশ নিস্তব্ধ, দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়। এই সময়টুকু ছিল প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য বিশেষ এক ইবাদতের সময়— যেখানে তিনি তার রবের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এই নীরব মুহূর্তগুলোতে লুকিয়ে আছে রহমত, মাগফিরাত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ রাতের আমলসমূহ

১. তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়

নবী (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন, যা তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ

‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর—এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত (ইবাদত)।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৭৯)

২. দীর্ঘ কিয়াম (দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত)

তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, কখনো এত দীর্ঘ হতো যে পা ফুলে যেত। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘তিনি এত দীর্ঘ কিয়াম করতেন যে তাঁর পা ফুলে যেত।’ (বুখারি ১১৩০, মুসলিম ২৮২০)

৩. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া

শেষ রাতে তিনি বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করতেন। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দেন—

وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

‘তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ১৮)

৪. তাসবিহ ও জিকির

রাতের শেষ সময়ে তিনি আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকতেন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—

فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ النُّجُومِ

‘নক্ষত্র অস্ত যাওয়ার সময় তুমি তোমার রবের তাসবিহ পাঠ কর।’ (সুরা আত-তূর: আয়াত ৪৯)

৫. উম্মতের জন্য দোয়া

তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, তার উম্মতের জন্যও কাঁদতেন এবং দোয়া করতেন। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘আমার উম্মত, আমার উম্মত’— বলে তিনি কাঁদতেন। (মুসলিম ২০২)

৬. ফজরের আগে বিতর নামাজ

তাহাজ্জুদের পর তিনি বিতর নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে পাকে এসেছে— ‘তোমরা রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর আদায় কর।’ (বুখারি ৯৯৮, মুসলিম ৭৫১)

রাতের শেষ প্রহর শুধু একটি সময় নয়— এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। মানুষ যখন ঘুমে অচেতন, তখন যারা আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তাদের মর্যাদা আলাদা। নবী (সা.)-এর এই আমলগুলো আমাদের জন্য পথনির্দেশনা— কিভাবে আমরা দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে পারি। আজ থেকেই চেষ্টা হোক—অন্তত কয়েক মিনিট হলেও সেই নীরব রাতকে ইবাদতে রাঙানোর। কারণ, এই সময় আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন, ক্ষমা করেন, এবং ভালোবাসা বর্ষণ করেন।