০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগসহ নানা দাবিতে লালমনিরহাটে স্মারকলিপি প্রদান

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।

‎স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।

লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।

আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।

উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস

পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগসহ নানা দাবিতে লালমনিরহাটে স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ এবং সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু করার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল লালমনিরহাটের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু-আল-হাজ্জাজ এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক দীপক কুমার রায়, সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের সংগঠক রাশেদুর জামান, দেওয়ান বাবু, বীরেন চন্দ্র বর্মণ, নূর নবী, বিধান প্রমুখ।

‎স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, লালমনিরহাট জেলা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জেলা এবং দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা। জেলার সমৃদ্ধি, জেলার উন্নতি তা বিশেষভাবে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ধারণ করে। জেলাবাসী যদি পদে পদে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায় তবে সে জেলা পিছিয়ে-পড়া। যখন জনগণ হাসপাতালে চিকিৎসা বঞ্চিত হয় কিংবা ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে মুত্যুবরণ করেন এবং বারবার ভুল চিকিৎসায় যখন মানুষ বিপর্যস্ত; তখন কান্না আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। আমাদের জেলাবাসী সুচিকিৎসা চায়, তারা নিজ জেলার হাসপাতালেই সেটা চায়। বলাবাহুল্য এই বিষয়টা এই জেলাবাসীর মৌলিক অধিকার।

লালমনিরহাট জেলার সদর হাসপাতাল কার্যত সুচিকিৎসা বলতে যা বোঝায় তা এখনও দিতে সক্ষম নয়। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ঘোষণা দিয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও বাড়েনি যথাযথভাবে এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ লোকবল। সংবাদমাধ্যমে বহুবার প্রকাশিত খবর যে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অবস্থাতেও এই হাসপাতালে ৫০% শতাংশের নিচে জনবল ছিল। কাজেই নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল ভবন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নামমাত্র শুরু হয়েছে। রোগীরা আসলে নতুন ভবনে নতুন বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

আমরা দেখে অভ্যস্ত যে, রোগে যন্ত্রণা নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীকে দ্রুত হতাশ হয়ে রিলিজ নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমনকি সাধারণ রোগেও মাঝে মাঝে চিকিৎসা মেলে না। রোগীরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ঠিকঠাক পান না। কতিপয় ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মুশকিলে পড়েন। জরুরি বিভাগ সামলে পুরো হাসপাতাল সমন্বয করা বিরাট বিপদের হয়ে যায়। মাত্র ৮জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কী একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলতে পারে? গভীর রাতে এর মধ্যেও ন্যূনতম চিকিৎসক দিয়ে কী পুরো হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব? তা সম্ভব নয়। এরপরও আছে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, যন্ত্রপাতির অভাব, টেকনিশিয়ানের ঘাটতি, রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির বিবিধ সংকট। কাজেই রোগীর চিকিৎসাসেবা যেনতেনভাবে হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসার অভাবে কখনো মারাও পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, নয়তো জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মূলতঃ সর্বস্তরের মানুষ আজ চিকিৎসাবঞ্চিত।

জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই জেলার সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন চাই, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুচিকিৎসা পেতে চাই।

আরও স্মারকলিপিতে দাবীসমূহে উল্লেখ্য করা হয় যে, ১. শূন্যপদ পূরণ করে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল সার্জন এবং রেডিওলজি, প্যাথলজি বিভাগে কনসালটেন্ট দিতে হবে। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল শাখায় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
২. সেবার মান বাড়াতে ও চিকিৎসা দিতে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, প্যাথলজিক্যাল রিএজেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্টের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা- নিরীক্ষা অবিরাম চালু রাখতে হবে।
৩. জরুরি বিভাগ (Emergency) ও ট্রমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এবং বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া। আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সচল করতে হবে।
৪. রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন বেড ইত্যাদি চালু করতে হবে। হাসপাতালে খাবারের সিডিউল উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা যাবে না।
৫. রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার করা।
৬. তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতালের প্রধান হওয়ায় তার নেতৃত্বেই সকল দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কনসালটেন্টকে রাতে কর্তব্যরত এলাকায় থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কল কনসালটেন্টকে অ্যাটেইন করতে হবে।
৭. হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আরো পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারির সকল পদে নিয়োগ দিতে হবে। অ-অনুমোদিত গাড়ি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে পারবে না।
৮. মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নিয়মিত অডিট করতে হবে। রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য চিকিৎসকসহ সকলের আচরণ উন্নত করা। সেবাআকাক্সক্ষী রোগীদেরও হাসপাতালে অবস্থানকালীন সচেতনতা, আচরণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাতে হবে। রোগী বা নাগরিকদের জন্য কার্যকর আধুনিক তথ্যকেন্দ্র ও অভিযোগ কেন্দ্র এবং হটলাইন চালু রাখা।

উল্লেখ্য যে, উক্ত স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের নিকট প্রেরণ করা হয়।