০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরগঞ্জের কৃষকের ক্যাপসিকাম এখন রাজধানীর বাজারে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের এক প্রান্তিক কৃষক আব্দুর রউফ আধুনিক কৃষি পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ক্যাপসিকাম চাষে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সফল উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক উন্নয়নই নিশ্চিত করেনি বরং স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন করে আগ্রহ ও সম্ভাবনার আলো জাগিয়েছে।

প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে উচ্চমূল্যের সবজি হিসেবে পরিচিত ক্যাপসিকাম চাষের সিদ্ধান্ত প্রথমে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও, উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি অল্প সময়েই ভালো ফলন পেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার উৎপাদিত ক্যাপসিকাম ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা তাকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা এনে দিচ্ছে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ক্যাপসিকাম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন সি, এ, ও, কে ছাড়াও রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এই সবজি অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া ক্যাপসাইসিন উপাদান হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে, ব্যথা উপশমে সহায়তা করতে এবং ত্বক ও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কৃষক আব্দুর রউফ জানান, শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও কৃষি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা তাকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তার ভাষায়, “সঠিক পরামর্শ আর যত্ন নিয়ে চাষ করলে ক্যাপসিকাম থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আমি আরও বড় পরিসরে এই চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে চাই।”

এই সাফল্যের পেছনে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম এবং সহকারী কৃষি অফিসার হায়দার আলীর সার্বিক সহযোগিতা তার সফলতার অন্যতম ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এমন উদ্যোগ ও সফলতা দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল চাষে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের চাষীরা ধুন্দল চাষে স্বাবলম্বী

বীরগঞ্জের কৃষকের ক্যাপসিকাম এখন রাজধানীর বাজারে

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের এক প্রান্তিক কৃষক আব্দুর রউফ আধুনিক কৃষি পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ক্যাপসিকাম চাষে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সফল উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক উন্নয়নই নিশ্চিত করেনি বরং স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন করে আগ্রহ ও সম্ভাবনার আলো জাগিয়েছে।

প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে উচ্চমূল্যের সবজি হিসেবে পরিচিত ক্যাপসিকাম চাষের সিদ্ধান্ত প্রথমে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও, উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি অল্প সময়েই ভালো ফলন পেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার উৎপাদিত ক্যাপসিকাম ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা তাকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা এনে দিচ্ছে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ক্যাপসিকাম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন সি, এ, ও, কে ছাড়াও রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এই সবজি অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া ক্যাপসাইসিন উপাদান হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে, ব্যথা উপশমে সহায়তা করতে এবং ত্বক ও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কৃষক আব্দুর রউফ জানান, শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও কৃষি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা তাকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তার ভাষায়, “সঠিক পরামর্শ আর যত্ন নিয়ে চাষ করলে ক্যাপসিকাম থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আমি আরও বড় পরিসরে এই চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে চাই।”

এই সাফল্যের পেছনে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম এবং সহকারী কৃষি অফিসার হায়দার আলীর সার্বিক সহযোগিতা তার সফলতার অন্যতম ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এমন উদ্যোগ ও সফলতা দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল চাষে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।