০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত: মুক্তির রজনীতে রহমতের প্রত্যাশা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

আত্মশুদ্ধি, তওবা ও মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত।

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি বা নাজাত। অর্থাৎ শবে বরাত মানে হলো মুক্তির রাত। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুন নিছ্ফ মিন শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন এবং আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এই রাতে অসংখ্য পাপিষ্ঠ বান্দাকে আল্লাহ নরক থেকে মুক্তি দেন বলে একে মুক্তির রজনী বলা হয়।

মহিমান্বিত এই রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাতভর নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও তাসবিহ পাঠে মগ্ন থাকবেন।

অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করবেন মুসল্লিরা।

শহর থেকে গ্রাম—দেশের প্রতিটি মসজিদে আজ বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ মাগরিব থেকে পর্যায়ক্রমে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

পবিত্র শবে বরাতকে ঘিরে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে এক বিশেষ আমেজ বিরাজ করে। এই রাত উপলক্ষে ঘরে ঘরে হালুয়া, রুটি ও নানা উপাদেয় খাবার তৈরির প্রচলন রয়েছে।

এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠানো এবং বিশেষ করে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও, প্রিয়জনদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মুসলমানরা আজ রাতে কবরস্থানে গিয়ে জিয়ারত করেন।

চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার কবরস্থানগুলোতে আজ উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পবিত্র শবে বরাত মুসলিম হৃদয়ে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। শাবান মাসের পরেই শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান। তাই আজকের এই রাতটি মূলত মুমিন মুসলমানদের জন্য রমজানের মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

পবিত্র এই রজনীর পবিত্রতা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করেছে।

শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সমাজ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কার দূর করে শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই হোক এই রাতের অঙ্গীকার।

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, দেশের সমৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

উল্লেখ্য, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত: মুক্তির রজনীতে রহমতের প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৯:১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

আত্মশুদ্ধি, তওবা ও মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত।

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি বা নাজাত। অর্থাৎ শবে বরাত মানে হলো মুক্তির রাত। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুন নিছ্ফ মিন শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন এবং আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এই রাতে অসংখ্য পাপিষ্ঠ বান্দাকে আল্লাহ নরক থেকে মুক্তি দেন বলে একে মুক্তির রজনী বলা হয়।

মহিমান্বিত এই রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাতভর নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও তাসবিহ পাঠে মগ্ন থাকবেন।

অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করবেন মুসল্লিরা।

শহর থেকে গ্রাম—দেশের প্রতিটি মসজিদে আজ বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ মাগরিব থেকে পর্যায়ক্রমে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

পবিত্র শবে বরাতকে ঘিরে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে এক বিশেষ আমেজ বিরাজ করে। এই রাত উপলক্ষে ঘরে ঘরে হালুয়া, রুটি ও নানা উপাদেয় খাবার তৈরির প্রচলন রয়েছে।

এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠানো এবং বিশেষ করে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও, প্রিয়জনদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মুসলমানরা আজ রাতে কবরস্থানে গিয়ে জিয়ারত করেন।

চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার কবরস্থানগুলোতে আজ উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পবিত্র শবে বরাত মুসলিম হৃদয়ে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। শাবান মাসের পরেই শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান। তাই আজকের এই রাতটি মূলত মুমিন মুসলমানদের জন্য রমজানের মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

পবিত্র এই রজনীর পবিত্রতা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করেছে।

শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সমাজ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কার দূর করে শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই হোক এই রাতের অঙ্গীকার।

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, দেশের সমৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

উল্লেখ্য, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে।