
মাটির নিচের জমানো লাল পাথরের প্রাচুর্যতা থেকেই লালমনিরহাট নামের উৎপত্তি হয়েছে। বর্তমানে ভূট্টায় ভরা সবার ঘর লালমনিরহাট স্বনির্ভর। ভূট্টার রাজধানীখ্যাত ইতিহাস, ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। লালমনিহাট জেলা ভূট্টা চাষের জন্যও বিখ্যাত।
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে ভূট্টার আবাদ হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ বছরেও ব্যাপক হারে ভূট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন চাষীরা। বিগত বছরগুলোতে ভূট্টা চাষে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় এ আবাদ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন সময়ের চেয়ে। মাঠে মাঠে ভূট্টা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।
জানা গেছে, বর্তমানে ভূট্টার বীজ শতভাগ আমদানি নির্ভর। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে ভূট্টার আবাদ হলেও এর বীজ উৎপাদনে সরকারী বা বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেই। আর বিদেশ থেকে আমদানিকৃত বীজের দামও দেশে উৎপাদিত ভূট্টার প্রায় ৫০গুণ বেশী। অর্থাৎ ভূট্টা ওঠার সময় প্রতি ৪০কেজি ১হাজার ৫০টাকা হতে ১হাজার ১শত টাকা দরে কৃষক বিক্রি করলেও বীজ কিনছে প্রতি কেজি ৪শত ৫০টাকা থেকে ৯শত টাকা পর্যন্ত। আবার বেশি দামে এসব বীজ কিনে চাষীরা প্রতারিত হয়।
তাই সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দেশে ভাল বীজ উৎপাদন হলে চাষীরা উপকৃত হবে। দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে ভূট্টা বীজ আমদানী করতে হয়। ৭/৮বছর যাবৎ দেশের উৎপাদিত ভূট্টা দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করে এবং আমাদের দেশের উৎপাদিত ভূট্টাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ভূট্টার বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় এর চাহিদাও দিন দিন বেড়েছে। বাংলাদেশের মাটি ভূট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরকার নজর দিলে ভূট্টা চাষেই পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চলতি বছর বিভিন্ন জাতের ভূট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ৩০হাজার ৮শত ৮৫হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
লালমনিরহাটের চাষকৃত ভূট্টা ফসলের হাইব্রিড ধরণ জাতগুলো হলো- পাইওনিয়ার-৩৩৫৫, পাইওনিয়ার-৩২২৬, পাইওনিয়ার-৩৫২৬, পিওর-৩৩৫৫, এস কিউ-৩৩৫৫, ডালিয়া-৪৪৫৫, বিএডিসি বি-৩৩৫৫, সুপারসাইন-২৭৫৫, সানসাইন, রকেট-৫৫, পদ্মা-৫৫, বাহুবলি-৫৫৫, সম্রাট, সিভাম-২৩৯, টাইগার-৫৫৫, বিজয়-৭১, এনএইচ-৭৭২০, সিনজেন্টা এস৭৭২০, ডিকাল্ব-৯২১৭, কেএমএইচবি-৪১০, কাবেরী-৫৪, বিশ্বাস-৫৫, মহাজাদু-৫৫৫, ধামাকা (ব্যাবিলন), রুপসী বাংলা-৬৬৫৫, দূর্জয়-৫৫৭৭, চ্যাম্পিয়ন, আলাস্কা, জয়-৫৫৫, আরএসজাদু-৫৫, সংগ্রাম-৫৫৫, বিজেতা-৫৫৫, মারজানা-৭১৫৫, জিৎ-৩৫৫৫, ধামাকা-৫৫, এসিআই ডন-১১১, টারজান-৫৫, লালবাদশা, সেরা-৭৭৫৫, লাকি-৭, সম্পদ-৫৫, নেতা-৩৩, মিয়াভাই-৫৫, তিস্তা গোল্ড-৯১৩০, সুপারম্যান, বারুদ, কৃষক রাজা, ব্রাক উত্তোরণ-২, পারফেক্ট ৫৫, জগৎসেরা-৫৫৫, স্বাধীন-৭১৫৫, প্রেসিডেন্ট, পালোয়ান (ডিকাল্ব)-৯১২০, পালোয়ান, তুফান-২২৫৫, সুরমা-৩৫৫, মহান-২১, চমক-৫৫৭৫, আশা-৫৫, বিরাট-৫৫৫, আলিবাবা, নারিশ, নারিশ-৫৫, ডিকাল্ব-৯১৬৫, নিও-৫৫, টাইগার৫৫৫, সুপার-৯১৮১, ক্লাসিক-০০১, তাজমহল-৫০৫৫, তাজ-৯০৫৫, বস্-৫৫৫, ডিসকভার-৫৫৫, যুবরাজ, টুম্পা-৫৫, হিরো-৩৩৫৫, প্যারাডাইস, রকি-৫৫, চেয়ারম্যান-৫৫, ডিকাল্ব৯১৮৮, ডিকাল্ব৯১৪৪, নোবেল-৭, সোনালী-৭১৫৫, রাশেদ-৫৫, বাসুধা-১৬৫৫, এমএম-২২৫৫, শান-২২৫৫, বাদশা, বিএন-৯১১ রবিন হুড, সবুজ বাংলা-৭২, সোনার বাংলা, জননী-৫৫, প্রাইম, তান্ডব, মিরাক্কেল-৫৫, মিরাক্কেল, সোনারতরী, কোহিনুর, বিপ্লব-৫৫৫, কনক, সফল-৫৫, এনকে-৪০, ইউনাইটেড-৫৫, লাল ব্র্যাক (পিএসি)-৩৩৯, লালতীর পিএসি-৩৩৯, এসিআই পিএসি-১৩৯, এলিট-১৩৯, ব্যারিষ্টার-৫৫, পাইওনিয়ার পি-৩৩১৯, আরএমএইচ-৯০৫৫, নেতাজী-৩০২২, আসল, কাবেরী১০০, জাম্বু, লালচন্দন, মাস্টার, সিপি-৯৮১, সিপি-৯৮৮, কাঞ্চন, প্যাসিফিক৩৩৯, এডভেন্টা (পিএসি৭৫৯), মেটাল সীড- পিএসি-৭৪১, কে এ ই ৫৪৪, সুলতান, মহাবীর, অষ্কার, ফুজি, জুরাহ২৫৫৫, মেজর, আমির৩২৫৫, পাইলট৫৫৫, মৌ৫০৫৫, হারভেষ্ট, বাজিমাত, জমিদার৫৫, বিডব্লিইএমআরআই।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা গ্রামের কৃষক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভূট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।
একই ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের হরিপদ রায় হরি ও কোদালখাতা গ্রামের কমল কান্তি বর্মন বলেন, প্রাকৃতিক কোন বড় ধরনের দূর্যোগ না হলে ভূট্টার আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুলগাছ ব্লকের প-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ থেকে ভূট্টা চাষী কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাই ফসল ভরা মাঠে ভূট্টা সোনালী রঙে রঙ্গীন হয়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন বলেন, লালমনিরহাটে এ মৌসুমে ৩০হাজার ৮শত ৮৫হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এ বছর লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে লালমনিরহাট সদরের ১হাজার ৭শত ৭০হেক্টর, আদিতমারীতে ৪শত ৮৫হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩হাজার ২শত ৩০হেক্টর, হাতীবান্ধায় ১২হাজার হেক্টর ও পাটগ্রামে ১৩হাজার ৪শত হেক্টরসহ মোট ৩০হাজার ৮শত ৮৫হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ হয়েছে।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 


















