
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও মোবাইল বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ; দরজা ভেঙে উদ্ধার—ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে অহনা (২৪) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বেলা তিনটার দিকে দরজা ভেঙে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিউ মার্কেটের একটি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।
সহকর্মীদের তথ্যমতে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল অহনার। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তিনি না পৌঁছানো এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে সহকর্মীরা ঈদগা রোড সংলগ্ন তার নতুন বাসায় খোঁজ নিতে গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে অহনাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় ঘরে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়—তার নিথর দেহের পাশে প্রিয় দুটি পোষা বিড়াল অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করছিল, যা উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা গেছে, অহনা মাত্র ১০–১২ দিন আগে শেখপাড়ার ওই বাসায় ওঠেন। এর আগে তিনি ঈদগা রোডের আরেকটি বাসায় একা বসবাস করতেন। সহকর্মীদের ভাষায়, তিনি ছিলেন শান্ত ও মিতভাষী। স্বল্প আয়ের মধ্যেও সংগ্রাম করে নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে আমরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় নিউ মার্কেট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও পরিচিতদের প্রশ্ন—কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা একজন সংগ্রামী তরুণীকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করল?
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 























