
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রচার ও প্রসারের লক্ষে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’। ‘যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এই মেলা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২:০০ ঘটিকায় আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
উদ্বোধনী শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা।
কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ মেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে স্বল্প খরচে অধিক ফসল ফলানো যায়, তা কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানোই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
মেলায় মোট ২০টিরও বেশি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হচ্ছে:
আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি: কম্বাইন হারভেস্টর, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার।
উন্নত বীজ ও চারা: উচ্চফলনশীল জাতের সবজি, ফল ও দানাশস্যের প্রদর্শনী।
জৈব কৃষি: ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের কৌশল।
সেচ ব্যবস্থাপনা: সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প ও স্মার্ট সেচ পদ্ধতি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে আমাদের লক্ষ্য এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা। এই ধরণের মেলা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।”
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিবান্ধব পরিবেশে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
আজ শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিকেলে কৃষকদের নিয়ে বিশেষ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 




















