০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গায় কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান

বৈষম্যহীন ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না

আমাদের জাতির উপর এক এক করে তান্ডব চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আমাদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন চালানো হয়েছে। আমাদের অফিসগুলোকে সিলগালা করে রাখা হয়েছিল। আমাদের নের্তৃবৃন্দদের বাড়ি-ঘরগুলোর উপর বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জামায়াত ইসলামী একমাত্র দল যাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্য কোন দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে জেলা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ সরকার দিশেহারা হয়ে ৫ আগষ্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদ সরকার উন্নয়নের নামে লুঠতরাজ করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ২০১৮ সালে করলো নীশি রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে করলো আমি আর মামু নির্বাচন অর্থাৎ নৌকা আর ডামি নির্বাচন। আজ অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করলো।

চুয়াডাঙ্গা শহরের ঐতিহ্যবাহী টাউন ফুটবল মাঠে জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, এই বীরেরা তাদের শরীরের রক্ত দিয়ে আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে। বাঙালী জাতি বীর সন্তানদের পেয়ে গেছে, এখন আর কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কথা দিচ্ছি আমরা যতক্ষণ না একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ততোক্ষণ আমরা আমাদের এই আন্দোলন ছাড়বো না।

সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশটাকে ভালোবাসুন। দেশকে ভালোবাসার অর্থ হলো আজ থেকে আর চাঁদাবাজি করা যাবে না। দখল বাণিজ্য চালানো যাবেনা। ঘুষ খাওয়া যাবে না। মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। কারও ইজ্জত লুন্ঠন করা যাবেনা। যখন তখন নিজের মধ্যে আমরা যুদ্ধ করবো না। অনেক সময় পদ-পদবীর জন্য নিজেরা যুদ্ধ করি। এতে অনেক নীরিহ মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মানুষ এগুলো দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ এগুলোকে ঘৃণা করে। জনগণকে আর বোকাও ভাববেন না, দুর্বলও ভাববেন না। জনগণ যথেষ্ঠ হুশিয়ান, রক্ত দিয়ে দিয়ে হুশিয়ার হয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন কালো টাকা আর পেশি শক্তি দিয়ে সবাইকে দমিয়ে দেয়া যাবে না। তাহলে এ ধারণাটা ভুল হবে।

তিনি বলেন, এখানে একটা সবার আগে একটা মেডিকেল কলেজ হওয়া দরকার। কারণ, সুস্থতার জন্য চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।‘বর্তমান সরকারকে বলবো আপনাদের মেয়াদ যেহেতু দীর্ঘ নয়, সব আপনারা পারবেন না। আগামী একনেকে ইনসাফের কারণে কমপক্ষে এখানে একটি প্রতিষ্ঠান দেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি মেডিকেল কলেজ দেন। ভোট নেওয়ার সময় বাবা ডাকে, ভোট নেওয়ার পর শালা ডাকতেও লজ্জা করে।’

জামায়াতের আমির বলেন, “চুয়াডাঙ্গার বিগত দিনের রাজনৈতিক নেতারা সব স্থান থেকে কমিশন খেয়ে টাকার পাহাড় গড়ে পালিয়েছেন। কথা দিচ্ছি, জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা ক্ষমতায় পাঠালে ইনসাফ অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার উন্নয়ন হবে।”

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, নেত্রকোনায় একটি বাড়িতে, বাপবেটা দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। বাবা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আর ছেলে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী। দুইজনকে ধরে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহির মামলা দেয়। আমাদের ভাত খাওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহীতা। এরা সাড়ে ১৫ বছর দেশকে ইচ্ছে মত চালিয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষের কথা বলে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করেছে। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিভক্তি টেনেছে। এক এক করে আমাদের ১১ জন নেতাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না যে তাদের নেতাদের বুক থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ওরা আমাদের জন্য দেশে যে কঙ্কাল রেখে গেছে সেই কঙ্কালে আমরা গোস্ত ও চামড়া পরাতে চাই। স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিকে মুগুর বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। উন্নয়নকে লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেন। দেশে নয় বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তুললেন। এ ভোটের অধিকারটার জন্য তো লড়াই করে বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল। পাকিস্তানিরা এ ভোটের মূল্য দেয়নি বলেই তো মানুষ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল, এটাই তো আপনারা শেষ করে দিলেন। আমাদের দেশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সৎ সাহস থাকলে দেশে আসেন। যদি দেশ, পার্টি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে একা একা থাকেন না। একা একা থাকা দুঃখের চেয়ে, আমাদের কাছে চলে আসেন কাশিমপুরে ভালো জায়গা করে দেব।

সরকারে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আর একটা ছেলেও যেন অ-শিক্ষা-ক্যু-শিক্ষায় শেষ হয়ে না যায়। সরকারের দায়িত্ব হবে তাকে তার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। পাঁচ বছর বয়স হলে তাকে তার শিক্ষা তার হাতে তুলে দেয়া। শিক্ষা জীবনে তার পাশে থাকা। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজ, সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, আব্দুল কাদের, জেলার দলিত পরিষদ নেতা শোভন দাস, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শুভর গর্বীত পিতা আবু সাঈদ মন্ডল।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, এতদিন চুয়াডাঙ্গায় কেবল রাক্ষসের শাসন চলেছে। এবার আমরা চুয়াডাঙ্গাকে নতুন করে গড়তে চাই। এর আগে তিনি সমাবেশ স্থলে জুম্মার নামাজের আলোচনা রাখেন এবং তার ইমামতিত্বে লাখো নেতাকর্মী জুম্মার নামাজ আদায় করেন। সকালে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মহিলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

কর্মী সম্মেলনের সম্মেলনস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর। কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে পুরো চুয়াডাঙ্গাকে বিলবোর্ড, তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ব্যানার দিয়ে পুরো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়। ফলে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। কিছুক্ষণ পর পর নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন, আলমডাঙ্গা পৌর আমীর মাহের আলী, চুয়াডাঙ্গা পোৗর আমীর অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর বিলাল হোসাইন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর শফিউল আলম বকুল, দর্শনা থানা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, জীবননগর উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, দামুরহুদা উপজেলা আমীর নায়েব আলী, অ্যাড. মুসলেম উদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যান সভাপতি মাহফুজুর রহমান, জেলা ওলামা সভাপতি মাওলানা ইসলাইল হোসেন, মজলিসুল মোফাস্সেরীন মাওলানা হাফিজুর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, জিয়াউল হক, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

 

ভিডিও দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

https://fb.watch/xauWCdxjMz/

https://fb.watch/xauVCOPeVK/

 

Tag :
এখন আলোচনায়

রূপপুরে সাগরচুরি: ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল তোলা হয় ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ

চুয়াডাঙ্গায় কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান

বৈষম্যহীন ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

আমাদের জাতির উপর এক এক করে তান্ডব চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আমাদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন চালানো হয়েছে। আমাদের অফিসগুলোকে সিলগালা করে রাখা হয়েছিল। আমাদের নের্তৃবৃন্দদের বাড়ি-ঘরগুলোর উপর বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জামায়াত ইসলামী একমাত্র দল যাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্য কোন দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে জেলা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ সরকার দিশেহারা হয়ে ৫ আগষ্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদ সরকার উন্নয়নের নামে লুঠতরাজ করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ২০১৮ সালে করলো নীশি রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে করলো আমি আর মামু নির্বাচন অর্থাৎ নৌকা আর ডামি নির্বাচন। আজ অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করলো।

চুয়াডাঙ্গা শহরের ঐতিহ্যবাহী টাউন ফুটবল মাঠে জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, এই বীরেরা তাদের শরীরের রক্ত দিয়ে আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে। বাঙালী জাতি বীর সন্তানদের পেয়ে গেছে, এখন আর কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কথা দিচ্ছি আমরা যতক্ষণ না একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ততোক্ষণ আমরা আমাদের এই আন্দোলন ছাড়বো না।

সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশটাকে ভালোবাসুন। দেশকে ভালোবাসার অর্থ হলো আজ থেকে আর চাঁদাবাজি করা যাবে না। দখল বাণিজ্য চালানো যাবেনা। ঘুষ খাওয়া যাবে না। মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। কারও ইজ্জত লুন্ঠন করা যাবেনা। যখন তখন নিজের মধ্যে আমরা যুদ্ধ করবো না। অনেক সময় পদ-পদবীর জন্য নিজেরা যুদ্ধ করি। এতে অনেক নীরিহ মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মানুষ এগুলো দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ এগুলোকে ঘৃণা করে। জনগণকে আর বোকাও ভাববেন না, দুর্বলও ভাববেন না। জনগণ যথেষ্ঠ হুশিয়ান, রক্ত দিয়ে দিয়ে হুশিয়ার হয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন কালো টাকা আর পেশি শক্তি দিয়ে সবাইকে দমিয়ে দেয়া যাবে না। তাহলে এ ধারণাটা ভুল হবে।

তিনি বলেন, এখানে একটা সবার আগে একটা মেডিকেল কলেজ হওয়া দরকার। কারণ, সুস্থতার জন্য চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।‘বর্তমান সরকারকে বলবো আপনাদের মেয়াদ যেহেতু দীর্ঘ নয়, সব আপনারা পারবেন না। আগামী একনেকে ইনসাফের কারণে কমপক্ষে এখানে একটি প্রতিষ্ঠান দেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি মেডিকেল কলেজ দেন। ভোট নেওয়ার সময় বাবা ডাকে, ভোট নেওয়ার পর শালা ডাকতেও লজ্জা করে।’

জামায়াতের আমির বলেন, “চুয়াডাঙ্গার বিগত দিনের রাজনৈতিক নেতারা সব স্থান থেকে কমিশন খেয়ে টাকার পাহাড় গড়ে পালিয়েছেন। কথা দিচ্ছি, জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা ক্ষমতায় পাঠালে ইনসাফ অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার উন্নয়ন হবে।”

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, নেত্রকোনায় একটি বাড়িতে, বাপবেটা দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। বাবা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আর ছেলে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী। দুইজনকে ধরে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহির মামলা দেয়। আমাদের ভাত খাওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহীতা। এরা সাড়ে ১৫ বছর দেশকে ইচ্ছে মত চালিয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষের কথা বলে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করেছে। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিভক্তি টেনেছে। এক এক করে আমাদের ১১ জন নেতাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না যে তাদের নেতাদের বুক থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ওরা আমাদের জন্য দেশে যে কঙ্কাল রেখে গেছে সেই কঙ্কালে আমরা গোস্ত ও চামড়া পরাতে চাই। স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিকে মুগুর বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। উন্নয়নকে লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেন। দেশে নয় বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তুললেন। এ ভোটের অধিকারটার জন্য তো লড়াই করে বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল। পাকিস্তানিরা এ ভোটের মূল্য দেয়নি বলেই তো মানুষ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল, এটাই তো আপনারা শেষ করে দিলেন। আমাদের দেশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সৎ সাহস থাকলে দেশে আসেন। যদি দেশ, পার্টি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে একা একা থাকেন না। একা একা থাকা দুঃখের চেয়ে, আমাদের কাছে চলে আসেন কাশিমপুরে ভালো জায়গা করে দেব।

সরকারে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আর একটা ছেলেও যেন অ-শিক্ষা-ক্যু-শিক্ষায় শেষ হয়ে না যায়। সরকারের দায়িত্ব হবে তাকে তার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। পাঁচ বছর বয়স হলে তাকে তার শিক্ষা তার হাতে তুলে দেয়া। শিক্ষা জীবনে তার পাশে থাকা। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজ, সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, আব্দুল কাদের, জেলার দলিত পরিষদ নেতা শোভন দাস, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শুভর গর্বীত পিতা আবু সাঈদ মন্ডল।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, এতদিন চুয়াডাঙ্গায় কেবল রাক্ষসের শাসন চলেছে। এবার আমরা চুয়াডাঙ্গাকে নতুন করে গড়তে চাই। এর আগে তিনি সমাবেশ স্থলে জুম্মার নামাজের আলোচনা রাখেন এবং তার ইমামতিত্বে লাখো নেতাকর্মী জুম্মার নামাজ আদায় করেন। সকালে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মহিলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

কর্মী সম্মেলনের সম্মেলনস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর। কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে পুরো চুয়াডাঙ্গাকে বিলবোর্ড, তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ব্যানার দিয়ে পুরো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়। ফলে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। কিছুক্ষণ পর পর নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন, আলমডাঙ্গা পৌর আমীর মাহের আলী, চুয়াডাঙ্গা পোৗর আমীর অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর বিলাল হোসাইন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর শফিউল আলম বকুল, দর্শনা থানা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, জীবননগর উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, দামুরহুদা উপজেলা আমীর নায়েব আলী, অ্যাড. মুসলেম উদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যান সভাপতি মাহফুজুর রহমান, জেলা ওলামা সভাপতি মাওলানা ইসলাইল হোসেন, মজলিসুল মোফাস্সেরীন মাওলানা হাফিজুর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, জিয়াউল হক, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

 

ভিডিও দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

https://fb.watch/xauWCdxjMz/

https://fb.watch/xauVCOPeVK/