
দামুড়হুদায় রাতের আধাঁরে আদালতের আদেশে দখলকৃত জমিতে থাকা ও নির্মাণধীন দোকান ঘরের দেওয়াল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্তরা হলেন-দামুড়হুদা দশমীর বাসষ্টান্ড পাড়ার মৃত.শাহার আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম( ৬৫),মো:জমশেদ আলী( ৬৪)ও তার ছেলে জিহাদ( ২৫) ও একই গ্রামের বুড়ো (৪৮) সহ অঙ্গাতনামা ১০/১৫ জন সংঘবদ্ধা দূর্বত্তরা একত্রিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা প্রধান আঞ্চলিক সড়ক দামুড়হুদা বাসষ্টান্ডের অদূরের সাপ্তাহিক কাঁচা বাজার সংলগ্ন আদালতের আদেশ অমান্য করে সদ্য দখলকৃত ২৩ শতক জমিতে নির্মাণাধীন দোকান ঘরের দেওয়াল ভেঙে দেয়।
ভুক্তভোগীর পাওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত দশমী মৌজায় জমি জমা সংক্রান্ত দীর্ঘ ৪২বছর মোকর্দ্দমা চলমানের পর অভিযোগকারীর পক্ষে দামুড়হুদা সহকারী জজ আদালত বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রী দেন। রায় ও ডিক্রী কার্যকর করতে গত ১১ জানুয়ারী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নালিশী জমি বাদী পক্ষের অনূকুলে দখল হস্তান্তর করে বুঝিয়ে দেয়। পরবর্তীতে উক্ত জমিতে স্থপনা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বিবাদীপক্ষ উক্ত রায় ও ডিক্রী অস্বীকার করে নালিশী জমিতে কোন প্রকারের কোন স্থপনা নির্মাণ করতে দেবে না মর্মে এলাকায় প্রচার করতে থাকে। পরবর্তীতে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য উক্ত নির্মাণাধীন স্থপনা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য একদল ভাড়াইটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নির্মাণাধীন স্থপনায় অনধিকার প্রবেশ করে ক্ষতি সাধন করে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪/৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছর ভুক্তভোগীসহ তাদের শরীকগণ মামলা পরিচালনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের আদেশে রায় পাওয়ার পাওয়ায় আদালত থেকে জমির প্রকৃতি মালিকদের জমির দখল বুজিয়ে দিয়ে যায় পরবর্তীতে উল্লেখিত জমিতে জমির মালিক চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন ভিমরুল্লা গ্রামের মৃত. ইমান আলীর ছেলে ছমির উদ্দিন শেখসহ তার শরীকগণ দামুড়হুদা দশমী মৌজায় সদ্য পাওয়া ২৩ শতক জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের আঁধারে কে বা কাহারা তাদের নির্মাণাধীন দোকান ঘরের দেওয়াল ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে জমির শরীক দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার মতলেব আলীর ছেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী এম এ করিমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরাসহ বাকী শরীকগণ কষ্ট করে মামলা চালিয়ে আসছিলাম। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আদালত চলতি মাসের ১১ তারিখে আমাদের শরীকগণদের পক্ষে রায় প্রদান করে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে আমাদের জমির দখল বুজিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের দখলকৃত জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ চলমান ছিলো। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানতে পারি কে বা কাহারা নির্মাণাধীন দোকান ঘরের দেওয়াল ভেঙে দিয়ে গেছে। যারা এটা করেছে অবশ্যই অন্যায় করেছে আমরা এ ব্যাপারে বিজ্ঞা আদালতকে জানাবো পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির (ওসি)জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা 






















