
চুয়াডাঙ্গায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ শহরের সর্বত্রই সাজ সাজ রব। রয়েছে মানুষেদের মাঝে উৎসবের বাড়তি আমেজ। এসকল সাজ ও উৎসবের মূলে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আগমন। চুয়ডাঙ্গায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছবি সংবলিত ত্রোণ, শত শত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। চুয়াডাঙ্গায় এই প্রথম জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতা একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় কর্মী সম্মেলনে অংশ নেবেন।’ জামায়াতে ইসলামীর এই কর্মী সম্মেলন ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে।
কর্মী সম্মেলন সফল করতে জেলার চার উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিদিনই প্রস্তুতি সভা, মোটরসাইকেল র্যালি, মাইকে প্রচার-প্রচারনায় সরগম গোটা জেলাজুড়ে। শহরের টাউন ফুটবল মাঠে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) জেলা আমির অ্যাড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ‘এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফীকুর রহমান। এছাড়াও ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।’
এর আগে গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি জেলা জামায়াতের সম্মেলন উপলক্ষে আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
আমিরে জামায়াত ডা. শফীকুর রহমানের চুয়াডাঙ্গায় গোটা ফসর সম্পর্কে অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় দশ মাইল হয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করবেন। রাত ৯টায় প্রেসক্লাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং রাতে বিশ্রামে চলে যাবেন। পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে নাস্তা সম্পন্নের পর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুলে অনুষ্ঠিতব্য মহিলা সমাবেশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করবেন। এছাড়াও এই সম্মেলন উপলক্ষে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার একটি কালচারাল প্রোগ্রামের সংক্ষিপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির সম্মেলনের দিন জুম্মার নামাজ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সম্মেলন স্থলে জুম্মার নামাজ আদায় করা হবে। যদি কোনো পরিবর্তন না আসে তাহলে জুম্মার নামাজে আমিরে জামায়াত ডা. শফীকুর রহমান ইমামতি করবেন। তিনি জুম্মার নামাজে ইমামতি না করলেও সম্মেলন স্থলে জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সম্মেলন হবে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা এবং সৎ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। আমরা এই সম্মেলন করছি মানবতার মুক্তি, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়ে। আমরা বৈষম্য দূর করতে এবং একটি আদর্শ দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিতে এই সমাবেশ করছি।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাড. রুহুল আমিন বলেন, ‘২০০০ সালে সর্বশেষ চুয়াডাঙ্গায় জামাতের সম্মেলন জামায়াতে আমির অধ্যাপক গোলাম আজম ‘স্যার’ এসছিলেন। এরপরে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আমিরে জামায়াত থাকা অবস্থায় সংক্ষিপ্ত সফরে এসেছিলেনন। কিন্তু আমিরে জামায়াত হয়ে এই প্রথম জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতা একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় কর্মী সম্মেলনে অংশ নেবেন।’
সম্মেলনে জামায়াতের নেতাকর্মীসহ মানুষের উপস্থিতির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনে অন্তত চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আমরা ধারণা করছি।’ এসময় তিনি সম্মেলন সুষ্ঠু ও সফল করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
বিশেষ সংবাদদাতা 






















