
র্যাব-১৩ এর অভিযানে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর ৫বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত অভিযুক্ত মোঃ বরাত ইসলাম (১৮) বাদীর পাড়া প্রতিবেশী। ভিকটিম প্রায়ই সময় খেলাধুলার উদ্দেশ্যে নিকটতম প্রতিবেশী মোছাঃ শাহিদা বেগমের বাসায় যায়। বুধবার (২৭ মে) বিকাল আনুমানিক ৪টায় ভিকটিম খেলাধুলার উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে ধৃত আসামি উক্ত স্থানে ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ বুঝে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে প্রতিবেশী শাহিদা বেগমের উত্তর দুয়ারী আধাপাকা টিনশেডের ঘরে নিয়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের ডাক চিৎকারে ধৃত আসামি ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায় এবং স্থানীয় লোকজন এসে ভিকটিমকে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১।
ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এর একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১২টা ৩০মিনিটে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানাধীন নওদাবাস কেতকিবাড়ি সাকিনস্থ জনৈক মোঃ সাকিবুল ইসলাম (৫০) এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার ধর্ষণ মামলার প্রধান এজাহার নামীয় অভিযুক্ত মোঃ বরাত ইসলাম (১৮)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার উত্তর মুশরদ মদাতী গ্রামের মোঃ হাফিজুল ইসলামের ছেলে।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

















