১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্ম ানের  দাবি এলাকাবাসীর

দামুড়হুদায় জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোতেই ভরসা কয়েকটি গ্রামের মানুষের

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা এলাকায় ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের একমাত্র চলাচলের ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই সাঁকোটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরি, ছুটিপুর পোতারপাড়া, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের প্রধান মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজ, চারুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশের সাঁকো দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে মোটরসাইকেল ও সাইকেল পারাপার করা গেলেও কোনো ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।

দুলালনগর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী টিটন বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছি। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”

একই গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল বলেন, “ফসল মাঠ থেকে ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে কৃষকদের বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে খরচ ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বাঁশের সাঁকো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর সংস্কার করতেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত টোল না দেওয়ায় ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা যাচ্ছে না। বর্ষার স্রোতে যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেসে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, “বাঁশের সাঁকোর বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে সাঁকোটি ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভৈরব নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

বিদ্যুতের দামে বড় লাফ, জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়তি চাপ

এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্ম ানের  দাবি এলাকাবাসীর

দামুড়হুদায় জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোতেই ভরসা কয়েকটি গ্রামের মানুষের

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা এলাকায় ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের একমাত্র চলাচলের ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই সাঁকোটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরি, ছুটিপুর পোতারপাড়া, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের নদী পারাপারের প্রধান মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজ, চারুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশের সাঁকো দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে মোটরসাইকেল ও সাইকেল পারাপার করা গেলেও কোনো ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।

দুলালনগর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী টিটন বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছি। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”

একই গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল বলেন, “ফসল মাঠ থেকে ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে কৃষকদের বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে খরচ ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বাঁশের সাঁকো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর সংস্কার করতেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত টোল না দেওয়ায় ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা যাচ্ছে না। বর্ষার স্রোতে যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেসে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, “বাঁশের সাঁকোর বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে সাঁকোটি ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভৈরব নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।