
বেশ কদিন ধরেই স্বর্ণের খোঁজে আরবিবি ইটভাটার মাটির স্তুপ খনন করে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল সহ আশ-পাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। নিরাপত্তা ঝুঁকি চিন্তা করে উপজেলার কাতিহার এলাকার ওই ইটভাটায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল শনিবার (২৫ মে) রাত সাড়ে দশটায় রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলার কাতিহার বাজারের উত্তর পাশে রাজোর গ্রামে মো. রুহুল আমিনের মালিকানাধীন আরবিবি ইট ভাটায় মাটির স্তূপ খুঁড়ে সোনা পাওয়া যাচ্ছে। এমন খবরে স্থানীয় লোকজন গেল এক মাস ধরে কোদাল, বাশিলা, খুন্তিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাটি কাটছিল। প্রতিদিন সেই স্থানে স্বর্ণের খোঁজ করছে। এতে আগ্রাসী লোকজন স্বর্ণ পাওয়ার আশায় ঝগড়া বিবাদেও লিপ্ত হচ্ছে। এতে যে কোন সময় মারামারি, খুন, জখমসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেই স্থানে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাতিহার আরবিবি ইটভাটা এলাকা ও এর আশেপাশে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
এদিকে কাতিহারের বাসিন্দাদের দাবি, ওই ইটভাটার মাটির ঢিবি খুঁড়লেই মিলছে সোনা। এরইমধ্যে এভাবে অনেকে স্বর্ণ পেয়েছেন। কিন্তু কে পেয়েছে এ কথা স্বীকার করছে না, কেউ তাই দিনে-রাতে আলো জ্বেলে লোকেরা মাটি খুঁড়ছে।
আরবিবি ইটভাটার ব্যবস্থাপক লিটন আলী বলেন, কাতিহার শ্যামরাই মন্দিরের পাশ থেকে মাটি খনন করে ইটভাটায় স্তূপ করা হয়েছে। গুজব উঠেছে ওই মাটির স্তূপ থেকে নাকি সোনার জিনিস পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষ দিনরাত ওই মাটির স্তূপ খোঁড়াখুঁড়ি করে যাচ্ছে। তবে কেউ সোনার কোনো অংশ পেয়েছেন, এমন খবর তারা পাননি বলে লিটন জানান।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান দৈনিক প্রথম বাংলাদেশকে বলেন, মাটি খোঁড়ার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত দু’দিন ধরে লোকজন আবার একই কাজ শুরু করেছে। তাই ওই এলাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ পাহারায় আছে বলেও ইউএনও জানান।
বিশেষ প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও । 
















