০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ক্লিনার দিয়ে অস্ত্রোপচার: তদন্তে চাঞ্চল্য, সুরক্ষা হাসপাতাল সিলগালা

ফরিদপুর:

ফরিদপুরে চিকিৎসা জগতে নজিরবিহীন অবহেলা ও অনিয়মের ঘটনায় সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতাল সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার নাঈমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা যায়, ১৮ নভেম্বর স্তনে ব্যথা ও সমস্যা অনুভব করলে জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সরোয়ার আলমের স্ত্রী ববিতা বেগম (২৮) সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে যান। চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বায়োপসি পরীক্ষার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে থাকা নিয়োগপত্র অনুযায়ী ক্লিনার নিয়ামুল শেখ রোগীকে বিভ্রান্ত করে জানান যে মেডিকেলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তিনি নিজেই বায়োপসি করতে পারবেন। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করে স্তনের টিস্যু সংগ্রহ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, ক্লিনারকে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো, অপারেশন থিয়েটারের ফ্রিজ বন্ধ থাকা, ভেতরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া—এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে হাসপাতালটি অবিলম্বে সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান জানান, ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটোকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসূত্রে আরও জানা যায়, ভুল অস্ত্রোপচারের পর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আক্রান্ত নারীর একটি স্তন কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঝিলটুলীতে চিকিৎসাধীন।

ফরিদপুরের স্বাস্থ্যসেবায় এমন অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

ফরিদপুরে ক্লিনার দিয়ে অস্ত্রোপচার: তদন্তে চাঞ্চল্য, সুরক্ষা হাসপাতাল সিলগালা

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর:

ফরিদপুরে চিকিৎসা জগতে নজিরবিহীন অবহেলা ও অনিয়মের ঘটনায় সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতাল সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার নাঈমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা যায়, ১৮ নভেম্বর স্তনে ব্যথা ও সমস্যা অনুভব করলে জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সরোয়ার আলমের স্ত্রী ববিতা বেগম (২৮) সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে যান। চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বায়োপসি পরীক্ষার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে থাকা নিয়োগপত্র অনুযায়ী ক্লিনার নিয়ামুল শেখ রোগীকে বিভ্রান্ত করে জানান যে মেডিকেলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তিনি নিজেই বায়োপসি করতে পারবেন। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করে স্তনের টিস্যু সংগ্রহ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, ক্লিনারকে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো, অপারেশন থিয়েটারের ফ্রিজ বন্ধ থাকা, ভেতরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া—এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে হাসপাতালটি অবিলম্বে সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান জানান, ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটোকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসূত্রে আরও জানা যায়, ভুল অস্ত্রোপচারের পর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আক্রান্ত নারীর একটি স্তন কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঝিলটুলীতে চিকিৎসাধীন।

ফরিদপুরের স্বাস্থ্যসেবায় এমন অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।