
চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাঝারি তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শহরের বড়বাজার চৌরাস্তা মোড়ে বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় পথচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, ভ্যান ও রিকশাচালক এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ করা হয়। পরে একই কর্মসূচি শহরের কোর্ট মোড় ও সদর হাসপাতাল এলাকায় পরিচালিত হয়।
রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সূত্রে জানা যায়, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে আসে। প্রয়োজন ছাড়া রোদে বাইরে না যাওয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
চুয়াডাঙ্গা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের যুব প্রধান হাবিবুর রহমান বলেন, “তীব্র গরম ও রোদের দাপদাহে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে খাবার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য ছাতা ও হাতপাখা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গরমে সুস্থ থাকার বিষয়ে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) শারমিন আক্তার, সরকারি কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি হামিদুর রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সেলিমুল হাবিব সেলিম, সিরাজুল ইসলাম মনি, মফিজুর রহমান মনা, আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, আল মাসুম বাবুসহ স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করায় জ্যৈষ্ঠের খরতাপে দিন-রাত উভয় সময়েই মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 


















