
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের দায়ে ‘মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জীবননগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত বিশেষ তদারকি অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। তদারকিকালে মনোয়ারা সনো সেন্টারের ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটারে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
তদন্তে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের ফ্রিজে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ল্যাবরেটরির ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন রিএজেন্টের মেয়াদও উত্তীর্ণ ছিল, যা দিয়ে পরীক্ষা করলে ভুল রিপোর্ট আসার আশঙ্কা থাকে।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মনোয়ারা খাতুনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। অপারেশন থিয়েটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত চলবে।”
অভিযানকালে সার্বিক সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সচেতন মহলের দাবি, শুধু জরিমানা নয়—নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি।
নাঈম উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার 


















