
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের গোবিন্দহুদা গ্রামের নুরুল হক পেশকার গ্রুপ ও মাসুম বিল্লাহ মন্টু গ্রুপের মধ্যে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়নুল(৫৫)নামের এক কৃষককে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করেছেন।গুরুতর জখম অবস্থায় ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষ রাত আটটায় পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন পুলিশ।এদিন রাতেই গোবিন্দহুদা কবরস্থানে নিহতের নামাজের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
(১৪ অক্টোবর)বুধবার সকাল ৭ টা ৩০ঘটিকায় গোবিন্দহুদা গ্রামের আড়মারি মাঠে এ ঘটনা ঘটে।নিহত কৃষক জয়নুল গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত.ঝড়ু মন্ডলের ছেলে।আহতরা হলেন-নিহত জয়নুলের ছেলে দিপু (১৮) ও তার আপন দু’ভাই খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৫০)।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।ঘটনাস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার( দামুড়হুদা সার্কেল)মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নুরুল হক পেশকার দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট ও তার অবৈধ অর্থের প্রভাবে জোর করে দখল করে আসছিলেন।এই জমি নিয়ে নুরুল হক পেশকার তাদের পরিবারের নামে অসংখ্যবার মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।তিনি একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু,তার ভূমিদস্যুর বিষয় নিয়ে যদি কোন সাধারণ মানুষ কথা বলেন তাকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলের ভয় দেখানোর নজির আছে।তিনি একজন মামলাবাজ।এই জমি নিয়ে তিনি আমাদের পরিবারের প্রায় ১৫ টিরও বেশি মিথ্যা মামলা দিয়েছে,তার মিথ্যা মামলা থেকে আমাদের মা-বোন-ভাই এমনকি শিশু সন্তানরাও রক্ষা পায়নি।সে আমাদের পরিবার ঘুম হারাম, সন্তানদের লেখাপড়া সহ অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতি করেছে।জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও বিজ্ঞ কোর্টের নির্দেশ আমাদের পক্ষ হলেও পেশকার মানতে নারাজ।এক পর্যায়ে জমিটা আমরা প্রায় ৭/৮ মাস যাবত করে খাচ্ছিলাম।এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালবেলা আমার চাচারা উল্লেখিত জমির বিভিন্ন স্থানে কৃষি কাজ করছিলেন।এসময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে নুরুল হক পেশকারের নেতৃত্বে তার লোকজন পিছন থেকে দেশীয় অস্ত্র রামদা, বটি, শাবল,কাঠের বাটাম দিয়ে হামলা চালায়।এ সময় তাদের অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুকিয়ে পড়েন সকলে।স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন আহত অবস্থায় সকলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়।এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের একজন মৃত্যুবরণ করেন।বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কজন হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতলে নেওয়ার পরামর্শ দিলে আমরা রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি।আমরা চাই, পেশকারের কঠোর শাস্তি হোক, তার ফাঁসি চাই।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবত গোবিন্দহুদা গ্রামের নুরুল হক পেশকার ও মাসুদ বিল্লাহ মন্টু গ্রুপের মাঝে প্রায় ৩০ বিঘার বেশি কৃষি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলেন।দুটি গ্রুপ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।তবে মন্টু গ্রুপ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না থাকায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে নুরুল হক পেশকার তার রাজনীতি আর অর্থনৈতিক দাপটে মন্টু গ্রুপকে একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার করে তাতে করে মন্টু গ্রুপ তাদের জমির প্রয়োজনীয় কাগজ সঠিক থাকলেও জমিতে যেতে পারেনি।স্থানীয়ভাবে ও কোর্টে মামলা করার পরেও মন্টু গ্রুপ জমির পাওনা হলেও পেশকার তার রাজনৈতিক শক্তি আর অর্থনৈতিক দাপটে জমি নিজের দখলে রেখে দেন।যার মধ্যে কিছু জমি তিনি বর্গা দেয়,আর বাকি জমিতে মাল্টা বাগান ও মাটি খনন করেন বিক্রি করেন।পরবর্তীতে গত ৫ আগস্টে দেশের রাজনীতি পট পরিবর্তনের পরেও নুরুল পেশকার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক অভিযোগ ও মামলা করে হয়রানি করেন।জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়েও বিরোধ চলে আসছিল উভায়ের মধ্যে।এরই জের ধরে বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মন্টু গ্রুপের লোকজন তাদের বিরোধপূর্ণ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন।এসময় নুরুল হক পেশকার গ্রুপের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ধারালো দেশীয় অস্ত্র,শাবল,কাঠের বাটম দিয়ে পেছন থেকে মাঠে কৃষি কাজ করা মন্টু গ্রুপের লোকজনকে রক্তাক্ত জখম ও হাত-পা ভেঙ্গে জমিতে ফেলে আসেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষক জয়নুল মারা যায়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত খাজা আহমেদ ও দিপুর পরিবারের সদস্যদের কে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাপলা খাতুন জানিয়েছেন,মারাত্মক আহত অবস্থায় ৪ জন অত্র হাসপাতালে আসেন, এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। বাকিদের মধ্যে খাজা আহমেদ ও দীপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদেরকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় এক পক্ষের ৪ জন মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জয়নুল নামের একজন মৃত্যুবরণ করেন।নিহতের ময়না তদন্ত শেষ মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
বিশেষ প্রতিনিধি 


























