১০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় বিশাল আকৃতির রাসেল ভাইপার আটক, সুন্দরবনে অবমুক্তের প্রস্তুতি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঠ থেকে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ আটক করেছেন স্থানীয় এক কৃষক। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগ সাপটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগ থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞ দলের কাছে হস্তান্তর ও অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

​এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মুন্সিপুর গ্রামের শিমুলতলা মাঠে সীমান্তের শূন্যরেখা-সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপটি আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সেটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিমুলতলা মাঠে একটি গাড়ল ভেড়াকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছিল সাপটি। বিষয়টি স্থানীয় কৃষক হাসানের নজরে আসলে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপটিকে আহত অবস্থায় আটক করেন। পরে সেটিকে একটি খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়। আটককৃত কৃষক হাসান মুন্সিপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে।

​সীমান্তবর্তী মাঠে এমন বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটি একনজর দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। এ সময় সাপটির আকৃতি ও বিষধর স্বভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

​বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি উপজেলা বন বিভাগকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড শাহাজামাল ওরফে রিপন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন এবং রাত ৯টার দিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

​এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) সুরেশ মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কাজে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তাঁর জানা নেই।

​তবে জীবননগর ডেপুটি রেঞ্জার শরিফুল ইসলাম কাজল সাপটি রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিষধর একটি সাপ। সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে।”

​সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল আকৃতির এই বিষধর সাপ আটকের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। তবে সাপটিকে নিরাপদে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার বন বিভাগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
এখন আলোচনায়

দামুড়হুদায় বিশাল আকৃতির রাসেল ভাইপার আটক, সুন্দরবনে অবমুক্তের প্রস্তুতি

দামুড়হুদায় বিশাল আকৃতির রাসেল ভাইপার আটক, সুন্দরবনে অবমুক্তের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঠ থেকে বিশাল আকৃতির একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ আটক করেছেন স্থানীয় এক কৃষক। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগ সাপটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগ থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞ দলের কাছে হস্তান্তর ও অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

​এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মুন্সিপুর গ্রামের শিমুলতলা মাঠে সীমান্তের শূন্যরেখা-সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপটি আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সেটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিমুলতলা মাঠে একটি গাড়ল ভেড়াকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছিল সাপটি। বিষয়টি স্থানীয় কৃষক হাসানের নজরে আসলে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপটিকে আহত অবস্থায় আটক করেন। পরে সেটিকে একটি খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়। আটককৃত কৃষক হাসান মুন্সিপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে।

​সীমান্তবর্তী মাঠে এমন বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাপটি একনজর দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। এ সময় সাপটির আকৃতি ও বিষধর স্বভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

​বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি উপজেলা বন বিভাগকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড শাহাজামাল ওরফে রিপন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন এবং রাত ৯টার দিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

​এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) সুরেশ মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কাজে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তাঁর জানা নেই।

​তবে জীবননগর ডেপুটি রেঞ্জার শরিফুল ইসলাম কাজল সাপটি রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিষধর একটি সাপ। সাপটিকে নিরাপদে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার জন্য খুলনা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে সাপটিকে সুন্দরবন এলাকায় অবমুক্ত করবে।”

​সীমান্তবর্তী মাঠে বিশাল আকৃতির এই বিষধর সাপ আটকের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। তবে সাপটিকে নিরাপদে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার বন বিভাগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।