
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসন্ন এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ ওঠায় আজ সোমবারের নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘জনি ফটোকপি’ নামক একটি দোকান থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই দোকান থেকেই মাত্র ১৫০০ টাকার বিনিময়ে গোপনীয় এই প্রশ্নপত্রটি বিক্রি করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পরীক্ষা শুরুর আগেই বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম অভিযুক্ত ‘জনি ফটোকপি’ দোকানে অভিযান চালান। অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজকের নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান, “গত রাতে ২০২৭ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁস হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে কোনো শিক্ষক বা বাইরের কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। যদি কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা জড়িত প্রমাণিত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন এবং জানান যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘটনার নেপথ্য সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির সব সদস্যকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হবে বলেও জানানো হয়।
একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেস্ট পরীক্ষার মতো গোপনীয় নথিপত্র ফটোকপির দোকান থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ এবং সংরক্ষণের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
নাঈম উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার 
















