০৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরগঞ্জ সিংড়া শালবন রক্ষায় সচেতনতামূলক সভা, অংশ নিলেন ১২০০ মানুষ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সিংড়া জাতীয় উদ্যান ও এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক আটটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার চাউলিয়া, ডালা, সিংড়া ও নন্দগাঁও গ্রামে আয়োজিত এসব সভায় প্রায় ১২০০ জন মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অর্থায়নে পরিচালিত ‘কম্প্রিহেন্সিভ নেচার লার্নিং টু অ্যাক্টিভেট স্কুল চিলড্রেন’ প্রকল্পের উদ্যোগে এসব সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সিংড়া জাতীয় উদ্যানবিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক উপস্থাপনার মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাগুলোতে চাউলিয়া মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিংড়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা প্রকল্পের আওতায় প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এ সময় সিংড়া শালবন ও এর বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার শপথ নেন।

ডালা গ্রামে আয়োজিত একটি সভায় ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. নুরুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের বন, আমাদের গর্ব। এই বন থেকে আমরা নানা ধরনের উপকার পাই। সিংড়া বন রক্ষার দায়িত্ব দূর থেকে এসে কেউ পালন করে দিয়ে যাবে না। আমাদের নিজেদেরই এগিয়ে এসে নিজেদের বন রক্ষা করতে হবে।’

আয়োজিত সভায় সিংড়া গ্রামের বাসিন্দা চুন্দা টুডু বলেন, বনের চারাগাছ তুলে নেওয়া ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চাউলিয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কাশেম একসময় সিংড়া বনে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, আগে বনটি আরও বড় ছিল। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গাছপালার ক্ষতি হয়। সিংড়া শালবন রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২৫ সালের ১৫ জুন শুরু হওয়া ২১ মাস মেয়াদি প্রকল্পটির লক্ষ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে তাদের উৎসাহিত করা। প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিংড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ক পাঠদান ও মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

রাজশাহীর বেলপুকুরিয়ায় দোমাদী আদর্শ কৃষি ক্লাবের উদ্যোগে মাদক ও জুয়া বিরোধী আলোচনা সভা

বীরগঞ্জ সিংড়া শালবন রক্ষায় সচেতনতামূলক সভা, অংশ নিলেন ১২০০ মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সিংড়া জাতীয় উদ্যান ও এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক আটটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার চাউলিয়া, ডালা, সিংড়া ও নন্দগাঁও গ্রামে আয়োজিত এসব সভায় প্রায় ১২০০ জন মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অর্থায়নে পরিচালিত ‘কম্প্রিহেন্সিভ নেচার লার্নিং টু অ্যাক্টিভেট স্কুল চিলড্রেন’ প্রকল্পের উদ্যোগে এসব সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সিংড়া জাতীয় উদ্যানবিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক উপস্থাপনার মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাগুলোতে চাউলিয়া মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিংড়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা প্রকল্পের আওতায় প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এ সময় সিংড়া শালবন ও এর বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার শপথ নেন।

ডালা গ্রামে আয়োজিত একটি সভায় ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. নুরুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের বন, আমাদের গর্ব। এই বন থেকে আমরা নানা ধরনের উপকার পাই। সিংড়া বন রক্ষার দায়িত্ব দূর থেকে এসে কেউ পালন করে দিয়ে যাবে না। আমাদের নিজেদেরই এগিয়ে এসে নিজেদের বন রক্ষা করতে হবে।’

আয়োজিত সভায় সিংড়া গ্রামের বাসিন্দা চুন্দা টুডু বলেন, বনের চারাগাছ তুলে নেওয়া ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চাউলিয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কাশেম একসময় সিংড়া বনে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, আগে বনটি আরও বড় ছিল। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গাছপালার ক্ষতি হয়। সিংড়া শালবন রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২৫ সালের ১৫ জুন শুরু হওয়া ২১ মাস মেয়াদি প্রকল্পটির লক্ষ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে তাদের উৎসাহিত করা। প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিংড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ক পাঠদান ও মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।