০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে তামাক চাষীদের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‎লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও তামাক চাষীদের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী বাজারস্থ লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতি কার্যালয়ে লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মোনায়েম সিদ্দিক মিলন। এ সময় লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ নূরন্নবী সরকার নয়ন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হবি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম মিঠু, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মোনায়েম সিদ্দিক মিলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্মানিত সাংবাদিকগণ, আমরা লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন “লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতি, লালমনিরহাট জেলা” হিসেবে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের এই অঞ্চলের চাষিরা বহু বছর ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং স্বপ্নের মাধ্যমে তারা পরিবার, জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু সম্প্রতি, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আমাদের সম্মান, পরিশ্রম এবং ন্যায্য পাওয়ার দাবিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই, যাঁর বিরুদ্ধে এই বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত প্রচারণা চলছে, তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। আমাদের ন্যায্য দাম পেতে সবসময় সাহায্য করেছেন। আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের পথচলায় সব সময় অবিচলভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন, এবং এখনও তিনি আমাদের ন্যায্য দাম পাওয়ার লড়াইয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনি আমাদের বিশ্বাস, এবং তাঁর নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ মূল্য পেতে সক্ষম হয়েছি।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন ইতিমধ্যেই লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তামাক চাষিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে চাষিদের ২২ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয় এবং কিছু দাবি ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। বাকি দাবিগুলোও ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ আমাদের দাবি এখন প্রশাসনের স্বীকৃতি পাচ্ছে, এবং কার্যকর সমাধান পথে রয়েছে।

যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তিনি কখনোই আমাদের আন্দোলনের অংশ ছিলেন না। বরং তিনি এখন একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। অতীতে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন না, বরং তামাক চাষিদের সঠিক দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। ২০২৬ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পূর্বে, অন্তর্বর্তী সরকার সময়ে, তামাক বিক্রয় প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট গঠন করার চেষ্টা তিনি করেছিলেন। যাতে তিনি তামাক চাষিদের ব্যবহার করে মধ্যস্বত্ত্বভোগী হিসেবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন তিনি আবার একটি সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি তামাক বিক্রির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে আমরা জানি, এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।

আমরা আরও স্পষ্ট করে বলতে চাই, তামাকের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি একটি নিদিষ্ট কাঠামোতে হয় না। তামাকের মান অনুযায়ী, তার দাম নির্ধারিত হয়, এবং বিদেশি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই মান বিবেচনায় দাম ঠিক করে। এবারের ফলনে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারনে তামাকের গুণমান কিছুটা কম হয়েছে। আর সেই গুণগত মানের কারণে দামেও এক ধরণের ওঠা নামা দেখা গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এই দাম নির্ধারণে গুণগত মানকে মাথায় রেখে, বৃষ্টিজনিত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়েই লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের জন্য ন্যায্য দাম চাওয়া হচ্ছে।

ধন্যবাদ, আপনারা সবাই সচেতন থাকুন, এবং মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সত্যটি সামনে আনুন। আমাদের পাশে থাকুন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তামাক চাষীদের অধিকার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ইতিপূর্বে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তামাক চাষী ও তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকটি সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে চাষীদের পক্ষ থেকে ২২ দফা দাবিও উত্থাপন করা হয়।

​ইতোমধ্যেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেশ কিছু দাবি পূরণ হয়েছে এবং বাকি দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছে ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো। কৃষকদের এই ২২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, চাষীর বসার জন্য চাষী ছাওনি স্থাপন। স্বাস্থ্য সম্মত ওয়াশ রুমের ব্যবস্থাকরণ। স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পানি ও ন্যায্য মূল্যে খাবারের ব্যবস্থাকরণ। স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করতে হবে। তামাক চাষীর ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন। তামাক ক্রয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি উপকরণ সরকারি বাজার মূল্যে সরবরাহ করতে হবে। দ্রুত সময়ে তামাক ক্রয় কৃষক ভোগান্তি কমানো (ক্রয় বুথ বৃদ্ধির মাধ্যমে)। সরাসরি কৃষকের নিকট তামাক ক্রয়, দালাল ও ফরিয়াদের নিকট তামাক ক্রয় করা যাবে না। কোন চাষীকে বাতিল করতে হলে বীজ বপনের পূর্বে চাষীকে অবহিত করতে হবে। চাষীদের তামাক উৎপাদন অনুপাতে কত বেল তামাক কোম্পানীতে সরবরাহ করতে পারবে তা-বেল সংখ্যায় প্রকাশ করতে হবে। লালমনিরহাট জেলার উন্নয়নের জন্য সি এস আর এর ২% টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক ক্রয় কেন্দ্রে সি সি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যান্য পণ্যের বাজার দর বিবেচনা করে বা উৎপাদনের উপকরণসমুহ ও শ্রমিক মূল্যের উপর ভিত্তি করে তামাকের ক্রয় মূল্যে নির্ধারণপূর্বক কৃষকে অবহিত করতে হবে। তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র চালু করতে হবে। প্রত্যেক চাষীর জন্য পৃথক পৃথক ডাটাবেস তৈরী করতে হবে। গ্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। গ্রেড পদ্ধতি আধুনিকরণ করা সম্ভব না হলে প্রত্যেক কৃষকের তামাক একই গ্রেড ধরে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।লালমনিরহাট জেলায় তামাক প্রসেসিংকরণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। কর্মচারীদের তামকের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বহিষ্কার করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুদামে তামাক ক্রয় করা যাবে না উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

কোরবানির ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কামাররা

লালমনিরহাটে তামাক চাষীদের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

‎লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও তামাক চাষীদের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী বাজারস্থ লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতি কার্যালয়ে লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মোনায়েম সিদ্দিক মিলন। এ সময় লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ নূরন্নবী সরকার নয়ন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হবি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম মিঠু, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মোনায়েম সিদ্দিক মিলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্মানিত সাংবাদিকগণ, আমরা লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন “লালমনিরহাট জেলা তামাক চাষী সমিতি, লালমনিরহাট জেলা” হিসেবে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের এই অঞ্চলের চাষিরা বহু বছর ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং স্বপ্নের মাধ্যমে তারা পরিবার, জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু সম্প্রতি, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আমাদের সম্মান, পরিশ্রম এবং ন্যায্য পাওয়ার দাবিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই, যাঁর বিরুদ্ধে এই বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত প্রচারণা চলছে, তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। আমাদের ন্যায্য দাম পেতে সবসময় সাহায্য করেছেন। আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামের পথচলায় সব সময় অবিচলভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন, এবং এখনও তিনি আমাদের ন্যায্য দাম পাওয়ার লড়াইয়ে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনি আমাদের বিশ্বাস, এবং তাঁর নেতৃত্বে আমরা সর্বোচ্চ মূল্য পেতে সক্ষম হয়েছি।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন ইতিমধ্যেই লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তামাক চাষিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে চাষিদের ২২ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয় এবং কিছু দাবি ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। বাকি দাবিগুলোও ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ আমাদের দাবি এখন প্রশাসনের স্বীকৃতি পাচ্ছে, এবং কার্যকর সমাধান পথে রয়েছে।

যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তিনি কখনোই আমাদের আন্দোলনের অংশ ছিলেন না। বরং তিনি এখন একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। অতীতে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন না, বরং তামাক চাষিদের সঠিক দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। ২০২৬ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পূর্বে, অন্তর্বর্তী সরকার সময়ে, তামাক বিক্রয় প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট গঠন করার চেষ্টা তিনি করেছিলেন। যাতে তিনি তামাক চাষিদের ব্যবহার করে মধ্যস্বত্ত্বভোগী হিসেবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন তিনি আবার একটি সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি তামাক বিক্রির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে আমরা জানি, এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।

আমরা আরও স্পষ্ট করে বলতে চাই, তামাকের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি একটি নিদিষ্ট কাঠামোতে হয় না। তামাকের মান অনুযায়ী, তার দাম নির্ধারিত হয়, এবং বিদেশি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই মান বিবেচনায় দাম ঠিক করে। এবারের ফলনে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারনে তামাকের গুণমান কিছুটা কম হয়েছে। আর সেই গুণগত মানের কারণে দামেও এক ধরণের ওঠা নামা দেখা গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এই দাম নির্ধারণে গুণগত মানকে মাথায় রেখে, বৃষ্টিজনিত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়েই লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের জন্য ন্যায্য দাম চাওয়া হচ্ছে।

ধন্যবাদ, আপনারা সবাই সচেতন থাকুন, এবং মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সত্যটি সামনে আনুন। আমাদের পাশে থাকুন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তামাক চাষীদের অধিকার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ইতিপূর্বে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তামাক চাষী ও তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকটি সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে চাষীদের পক্ষ থেকে ২২ দফা দাবিও উত্থাপন করা হয়।

​ইতোমধ্যেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেশ কিছু দাবি পূরণ হয়েছে এবং বাকি দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছে ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো। কৃষকদের এই ২২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, চাষীর বসার জন্য চাষী ছাওনি স্থাপন। স্বাস্থ্য সম্মত ওয়াশ রুমের ব্যবস্থাকরণ। স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পানি ও ন্যায্য মূল্যে খাবারের ব্যবস্থাকরণ। স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করতে হবে। তামাক চাষীর ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন। তামাক ক্রয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি উপকরণ সরকারি বাজার মূল্যে সরবরাহ করতে হবে। দ্রুত সময়ে তামাক ক্রয় কৃষক ভোগান্তি কমানো (ক্রয় বুথ বৃদ্ধির মাধ্যমে)। সরাসরি কৃষকের নিকট তামাক ক্রয়, দালাল ও ফরিয়াদের নিকট তামাক ক্রয় করা যাবে না। কোন চাষীকে বাতিল করতে হলে বীজ বপনের পূর্বে চাষীকে অবহিত করতে হবে। চাষীদের তামাক উৎপাদন অনুপাতে কত বেল তামাক কোম্পানীতে সরবরাহ করতে পারবে তা-বেল সংখ্যায় প্রকাশ করতে হবে। লালমনিরহাট জেলার উন্নয়নের জন্য সি এস আর এর ২% টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক ক্রয় কেন্দ্রে সি সি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যান্য পণ্যের বাজার দর বিবেচনা করে বা উৎপাদনের উপকরণসমুহ ও শ্রমিক মূল্যের উপর ভিত্তি করে তামাকের ক্রয় মূল্যে নির্ধারণপূর্বক কৃষকে অবহিত করতে হবে। তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র চালু করতে হবে। প্রত্যেক চাষীর জন্য পৃথক পৃথক ডাটাবেস তৈরী করতে হবে। গ্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। গ্রেড পদ্ধতি আধুনিকরণ করা সম্ভব না হলে প্রত্যেক কৃষকের তামাক একই গ্রেড ধরে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।লালমনিরহাট জেলায় তামাক প্রসেসিংকরণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। কর্মচারীদের তামকের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বহিষ্কার করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুদামে তামাক ক্রয় করা যাবে না উল্লেখ করা হয়েছে।