
জাতীয় পর্যায়ের অনলাইন আর্ট প্রতিযোগিতায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে চাঁদপুরের কৃতি শিক্ষার্থী রুবাইয়া রহমত রুহি। সে চাঁদপুরের স্বনামধন্য দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রহমত আলী রিপনের বড় কন্যা। অল্প বয়সেই তার এই গৌরবময় অর্জন পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় অনলাইন আর্ট প্রতিযোগিতাটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিল্পীরা নিজেদের কল্পনা, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়ে নানা ধরনের চিত্রকর্ম উপস্থাপন করে। এর মধ্যেই নিজের মেধা, শিল্পভাবনা ও রঙের নান্দনিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারকদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয় রুবাইয়া রহমত রুহি। পরবর্তীতে প্রকাশিত মেধা তালিকায় তার নাম স্থান পাওয়ায় চাঁদপুরবাসীর মাঝেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই রুহির ছবি আঁকার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত আঁকাআঁকির চর্চা করে আসছে সে। পরিবারের উৎসাহ ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ধীরে ধীরে তার শিল্পীসত্তা বিকশিত হতে থাকে। বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের এই অর্জন তার দীর্ঘদিনের সাধনা ও পরিশ্রমেরই ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রুহির বাবা মোঃ রহমত আলী রিপন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়ের আঁকার প্রতি আলাদা আগ্রহ রয়েছে। আমরা সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছি। জাতীয় পর্যায়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সকলের দোয়া থাকলে ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করছি।”
রুহির এই অর্জনে আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকার বিশিষ্টজনরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অনেকে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সাফল্য চাঁদপুরের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝেও শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।
দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পরিবারের পক্ষ থেকেও রুবাইয়া রহমত রুহিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পত্রিকার সহকর্মীরা তার এই অর্জনকে চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তার সুস্থ, সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মনে করছেন, বর্তমান প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হলে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রুবাইয়া রহমত রুহির মতো তরুণ প্রতিভাদের উৎসাহিত করা গেলে ভবিষ্যতে দেশ আরও অনেক গুণী শিল্পী পাবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
সবমিলিয়ে জাতীয় আর্ট প্রতিযোগিতায় রুবাইয়া রহমত রুহির এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের জন্যই নয়, চাঁদপুরবাসীর জন্যও এক গর্বের অর্জন হয়ে উঠেছে। তার এই পথচলা আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা সবার।
জাবেদ হোসেন, চাঁদপুর প্রতিনিধি 

















