
লালমনিরহাট সদর থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর পলাতক আসামিকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
সোমবার (১১ মে) র্যাব-১৩ সিপিসি-৩, রংপুর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ও গ্রেফতারকৃত আসামি একই গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় বাদীর ছোট ভাই মো. আসাদুল হাবিব (৩০) ও তার বাবা বাধা দিলে হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠি, ছোরা, সাবল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে মারা যান মো. আসাদুল হাবিব।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. আহসান হাবিব সরকার বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১০ মে) রাত দেড়টার দিকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার বড়দরগাহ ইউনিয়নের শাহাপাড়া হাজীপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনৈক নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. রেজাউল মিয়া (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার আব্দুস সোবাহানের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সব ধরনের গুরুতর অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 


















