১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত তরিকুল আটক: ধামাচাপার চেষ্টা নস্যাৎ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ইব্রাহিমপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে তরিকুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে দামুড়হুদা থানা পুলিশ। অভিযুক্ত তরিকুল ইব্রাহিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

​নৃশংস এই ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। আজ সোমবার (২৫ মে) এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দামুড়হুদা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

​মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ মে (বুধবার) দুপুরে ওই বৃদ্ধা তাঁর মেয়ের বাড়ি রামনগর গ্রাম থেকে একা পায়ে হেঁটে ইব্রাহিমপুরের নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুর উত্তরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত যুবক তরিকুল ইসলাম ওই বৃদ্ধাকে একা পেয়ে সাহায্যের নাম করে তাঁর সঙ্গী হয়।

বৃদ্ধাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তরিকুল তাকে কৌশলে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
​একপর্যায়ে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনে ‘মেন্দের মাঠ’ নামক একটি জনমানবহীন স্থানে নিয়ে গিয়ে তরিকুল ওই বৃদ্ধার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বৃদ্ধার চিৎকার ও আকুতি সত্ত্বেও পাষণ্ড যুবক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

​নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা কোনোমতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই স্থানীয় একটি মাতব্বর ও প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাঠে নামে। সামাজিক লোকলজ্জা এবং আইনি ঝামেলা এড়ানোর দোহাই দিয়ে তারা বিষয়টি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ‘মীমাংসা’ করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে।

এর ফলে ঘটনার পর চার-পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও পরিবারটি থানায় আসতে বাধা পায়। তবে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

​ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তৎপরতা শুরু করে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয়।

​দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
​”৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে আমরা তরিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে আটক করেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার নেওয়া হচ্ছে এবং আজ সোমবারের মধ্যেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে যারা এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বা মীমাংসা করার চেষ্টা করছিল, তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

​পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আটককৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুরো ইব্রাহিমপুর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে র‌্যাবের অভিযানে ৩.৫কেজি গাঁজাসহ ২জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

দামুড়হুদায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত তরিকুল আটক: ধামাচাপার চেষ্টা নস্যাৎ

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ইব্রাহিমপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে তরিকুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে দামুড়হুদা থানা পুলিশ। অভিযুক্ত তরিকুল ইব্রাহিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

​নৃশংস এই ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। আজ সোমবার (২৫ মে) এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দামুড়হুদা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

​মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ মে (বুধবার) দুপুরে ওই বৃদ্ধা তাঁর মেয়ের বাড়ি রামনগর গ্রাম থেকে একা পায়ে হেঁটে ইব্রাহিমপুরের নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুর উত্তরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত যুবক তরিকুল ইসলাম ওই বৃদ্ধাকে একা পেয়ে সাহায্যের নাম করে তাঁর সঙ্গী হয়।

বৃদ্ধাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তরিকুল তাকে কৌশলে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
​একপর্যায়ে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনে ‘মেন্দের মাঠ’ নামক একটি জনমানবহীন স্থানে নিয়ে গিয়ে তরিকুল ওই বৃদ্ধার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বৃদ্ধার চিৎকার ও আকুতি সত্ত্বেও পাষণ্ড যুবক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

​নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা কোনোমতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই স্থানীয় একটি মাতব্বর ও প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাঠে নামে। সামাজিক লোকলজ্জা এবং আইনি ঝামেলা এড়ানোর দোহাই দিয়ে তারা বিষয়টি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ‘মীমাংসা’ করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে।

এর ফলে ঘটনার পর চার-পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও পরিবারটি থানায় আসতে বাধা পায়। তবে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

​ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দামুড়হুদা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তৎপরতা শুরু করে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয়।

​দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
​”৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে আমরা তরিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে আটক করেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার নেওয়া হচ্ছে এবং আজ সোমবারের মধ্যেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে যারা এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বা মীমাংসা করার চেষ্টা করছিল, তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

​পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আটককৃত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুরো ইব্রাহিমপুর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।