০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপন: “প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি”

 

“প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ৩৪ তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৭ তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার বেলা ১২টার সময় দামুড়হুদা উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী। নানা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই র‍্যালীতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিবন্ধী উপকারভোগী, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

র‍্যালীটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিষদের সভাকক্ষে এসে শেষ হয়।
র‍্যালী শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তোফাজ্জল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এইচ তাসফিকুর রহমান প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন,
“প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাতা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে—
“সহানুভূতি নয়, বরং অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই তাদের প্রতিভা, দক্ষতা ও সক্ষমতা দিয়ে সমাজে আরও এগিয়ে যাক।”

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবায় সর্বদা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যাতে সেবা পৌঁছে যায়, তা আমরা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে প্রতিবন্ধীরা বোঝা নয়—বরং সমাজের একেকজন সম্পদ হয়ে উঠবে।”

উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রসিদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
ডা. ফাহমিদা আক্তার
দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ
একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম
কারিতাস বাংলাদেশ প্রতিনিধি বাপ্পা মন্ডল
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী উপকারভোগী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলস্রোতে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

দামুড়হুদা উপজেলায় দিবসটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে এলাকার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হলো।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে রূপালী ব্যাংকের শাখা প্রধানের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপন: “প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি”

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

“প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ৩৪ তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৭ তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার বেলা ১২টার সময় দামুড়হুদা উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী। নানা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই র‍্যালীতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিবন্ধী উপকারভোগী, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

র‍্যালীটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিষদের সভাকক্ষে এসে শেষ হয়।
র‍্যালী শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তোফাজ্জল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এইচ তাসফিকুর রহমান প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন,
“প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাতা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে—
“সহানুভূতি নয়, বরং অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই তাদের প্রতিভা, দক্ষতা ও সক্ষমতা দিয়ে সমাজে আরও এগিয়ে যাক।”

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবায় সর্বদা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যাতে সেবা পৌঁছে যায়, তা আমরা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে প্রতিবন্ধীরা বোঝা নয়—বরং সমাজের একেকজন সম্পদ হয়ে উঠবে।”

উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রসিদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
ডা. ফাহমিদা আক্তার
দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ
একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম
কারিতাস বাংলাদেশ প্রতিনিধি বাপ্পা মন্ডল
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী উপকারভোগী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলস্রোতে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

দামুড়হুদা উপজেলায় দিবসটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে এলাকার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হলো।