০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ বছর সংবাদ পত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ

শাহাবুলের সংবাদপত্রের মাধ্যমে জমজমাট থাকে ৩ ইউনিয়নের চায়ের দোকান

সাম্প্রতিক সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রায় সবকিছুরই বিপ্লব ঘটেছে। আগের তুলনায় অনেক কিছুর নিময় কানুনেরও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে হাজারও সম্পাদক-সম্পাদিকাদের ব্যাপক প্রচেষ্টায় ধরে রেখেছেন জনসাধারণের নির্ভরতার মুখ্য আঞ্চলিক ও জাতীয় সংবাদপত্র। সেই সব সংবাদপত্রের খবরা খবর গ্রাহকের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় সৎ, নির্ভীক সংবাদপত্র বিক্রেতা।

যার মাধ্যমে সমাজের অন্যায়-অবিচার বিড়ম্বনা নিপীড়িতদের প্রতিফলিত সংবাদ ১৭ বছর একাধারে বাইসাইকেল করে ৩টি ইউনিয়নের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে শাহাবুল হোসেন(৩৯) নামের এক অতি দিন মজুর সংবাদপত্র বিক্রেতা।

তিনি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগাডাঙ্গা গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে।

সংবাদপত্র বিক্রেতা শাহাবুল হোসেন বলেন,৩/৪ বছর আগে সংবাদপত্র বিক্রয় করে আমার মাসিক বেতন ভাতা হতো ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। তাতে করে সংসারের খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে যেত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যর বাজার ঊর্ধ্বগতি থাকায় অনেক গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়িয়েছি। যাতে করে সংবাদপত্রগুলোও মানুষের হাতে পৌঁছায় এবং বাড়তি আয়ে আমার সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরে।

কার্পাসডাঙ্গা, কুড়ালগাছী ও নাটুদহ ইউনিয়নে সংবাদপত্র বিক্রয় করে আমার বর্তমান আয় হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সাংবাদিক মেহেদী হাসান মিলন জানান, আমার সাংবাদিকতা পেশায় আসার আগে থেকেই দেখি শাহাবুল পায়ে ঠেলে বাইসাইকেল করে এভাবেই পেপার পত্রিকা বিক্রি করে তার সংসার চলে। গ্রাহকরা শাহাবুলের সদাসত্য আচরণে বেশ খুশিও থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এলাকায় অনেক পেপার বিক্রেতা এসেছে কিন্তু ১/২ বছর করার পর আবার তারা এই পেশা থেকে দূরে চলে গেছে। আবার কোন কোন দিন সঠিক সময়ে গ্রাহকদের নিকট পৌঁছে দিতোনা।

এদিকে পেপারের ২ টাকা মূল্য থাকাকালীন অবস্থা থেকেই এ পেশায় সংযুক্ত শাহাবুল। সে খুব সকাল সকাল চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত প্রতিটি আঞ্চলিক সংবাদপত্র ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদপত্র সংগ্রহ করে। তারপর প্রতিটি গ্রাম গঞ্জের সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন দোকানপাটে পৌঁছে দেয়। তবে ১৭ বছর ধরে শাহাবুল দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা,কুড়ালগাছী ও নাটুদহ এই ৩ ইউনিয়নের প্রতিটি ছোট বড় মানুষের কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় ভ্যান চালক পেলো  মোটরসাইকেল পুরস্কার

১৭ বছর সংবাদ পত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ

শাহাবুলের সংবাদপত্রের মাধ্যমে জমজমাট থাকে ৩ ইউনিয়নের চায়ের দোকান

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

সাম্প্রতিক সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রায় সবকিছুরই বিপ্লব ঘটেছে। আগের তুলনায় অনেক কিছুর নিময় কানুনেরও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে হাজারও সম্পাদক-সম্পাদিকাদের ব্যাপক প্রচেষ্টায় ধরে রেখেছেন জনসাধারণের নির্ভরতার মুখ্য আঞ্চলিক ও জাতীয় সংবাদপত্র। সেই সব সংবাদপত্রের খবরা খবর গ্রাহকের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় সৎ, নির্ভীক সংবাদপত্র বিক্রেতা।

যার মাধ্যমে সমাজের অন্যায়-অবিচার বিড়ম্বনা নিপীড়িতদের প্রতিফলিত সংবাদ ১৭ বছর একাধারে বাইসাইকেল করে ৩টি ইউনিয়নের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে শাহাবুল হোসেন(৩৯) নামের এক অতি দিন মজুর সংবাদপত্র বিক্রেতা।

তিনি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগাডাঙ্গা গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে।

সংবাদপত্র বিক্রেতা শাহাবুল হোসেন বলেন,৩/৪ বছর আগে সংবাদপত্র বিক্রয় করে আমার মাসিক বেতন ভাতা হতো ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। তাতে করে সংসারের খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে যেত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যর বাজার ঊর্ধ্বগতি থাকায় অনেক গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়িয়েছি। যাতে করে সংবাদপত্রগুলোও মানুষের হাতে পৌঁছায় এবং বাড়তি আয়ে আমার সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরে।

কার্পাসডাঙ্গা, কুড়ালগাছী ও নাটুদহ ইউনিয়নে সংবাদপত্র বিক্রয় করে আমার বর্তমান আয় হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সাংবাদিক মেহেদী হাসান মিলন জানান, আমার সাংবাদিকতা পেশায় আসার আগে থেকেই দেখি শাহাবুল পায়ে ঠেলে বাইসাইকেল করে এভাবেই পেপার পত্রিকা বিক্রি করে তার সংসার চলে। গ্রাহকরা শাহাবুলের সদাসত্য আচরণে বেশ খুশিও থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এলাকায় অনেক পেপার বিক্রেতা এসেছে কিন্তু ১/২ বছর করার পর আবার তারা এই পেশা থেকে দূরে চলে গেছে। আবার কোন কোন দিন সঠিক সময়ে গ্রাহকদের নিকট পৌঁছে দিতোনা।

এদিকে পেপারের ২ টাকা মূল্য থাকাকালীন অবস্থা থেকেই এ পেশায় সংযুক্ত শাহাবুল। সে খুব সকাল সকাল চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত প্রতিটি আঞ্চলিক সংবাদপত্র ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদপত্র সংগ্রহ করে। তারপর প্রতিটি গ্রাম গঞ্জের সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন দোকানপাটে পৌঁছে দেয়। তবে ১৭ বছর ধরে শাহাবুল দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা,কুড়ালগাছী ও নাটুদহ এই ৩ ইউনিয়নের প্রতিটি ছোট বড় মানুষের কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠেছে।