
মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও লালমনিরহাট পৌরসভার সঙ্গে মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ ও বত্রিশ হাজারী এলাকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ খোরারপুলে সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাবরিখানা নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু ব্যবহার করেই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাবরিখানা নদীর ওপর রেলওয়ের লাইন দিয়ে নির্মিত সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাবরিখানা নদীর ফুলগাছ-খোরারপুল এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। একই সঙ্গে প্রয়োজন একটি বিকল্প সড়কও। কারণ লালমনিরহাট-মোগলহাট প্রায় ১০ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে ওই স্থানে একটি স্থায়ী বাঁশের সাঁকো ছিল।
স্থানীয়রা জানান, সেতু ও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে উত্তর পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
১ নম্বর মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেতুটি নির্মিত হলে মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে, সেবার মান বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত খোরারপুলে সাবরিখানা নদীর ওপর সেতু ও প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।
সেতুটি নির্মাণ হলে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের সাকোয়া, লালমনিরহাট পৌরসভার খোঁচাবাড়ী, সবুজপাড়া, শাহজাহান কলোনী ও সাধুটারী এবং মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ, বত্রিশ হাজারী ও কোদালখাতা গ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
হেলাল হোসেন কবির 


















