০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নষ্ট, চুরি ও পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি

  • ইত্তেফাক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪০ Time View

হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ঘটনা জানার পর দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।

প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা পরবর্তী সময়ে ঘটলে প্রতিবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল। এটি অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন বাড়ায় নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। জিডি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না এলেও জিডির কপি সংযুক্ত করে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। পরে অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

জিডি যাচাইয়ের সময় যদি জানা যায়, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে বা দ্রুত ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সুযোগ থাকবে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও বিষয়টি জানানো হবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে তার ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ‘Lost’ বা ‘Revoked’ হিসেবে হালনাগাদ করতে হবে।

পরিপত্রে আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্তের মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে জানিয়ে সেটি রিভোক করার পর পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলেও তা আর সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত থানায় এবং অনলাইনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করা হবে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যু নিয়ে আগে জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। জারির দিন থেকেই এর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৩

নষ্ট, চুরি ও পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি

আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ঘটনা জানার পর দ্রুত অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।

প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা পরবর্তী সময়ে ঘটলে প্রতিবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল। এটি অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন বাড়ায় নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। জিডি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না এলেও জিডির কপি সংযুক্ত করে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। পরে অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

জিডি যাচাইয়ের সময় যদি জানা যায়, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে বা দ্রুত ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সুযোগ থাকবে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও বিষয়টি জানানো হবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে তার ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ‘Lost’ বা ‘Revoked’ হিসেবে হালনাগাদ করতে হবে।

পরিপত্রে আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্তের মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে জানিয়ে সেটি রিভোক করার পর পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলেও তা আর সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত থানায় এবং অনলাইনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করা হবে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যু নিয়ে আগে জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। জারির দিন থেকেই এর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।