
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ৪টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চোরাকারবারীরা ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ০০:৪৫ঘটিকায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন উত্তরপাড়া, রাত ০০:০৫ঘটিকায় অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বেন্নীরতল এবং মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ২১:৩০ঘটিকায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার খামারভাতি, দুপুর ৩টা ৩০মিনিটে দুর্গাপুর বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার শুটিবাড়ি নামক স্থানে ৪টি বিশেষ টহল পরিচালনার সময় কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৩৪.২কেজি, মদ ৩৩টি বোতল এবং বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজা ৩৪.২কেজি, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ১৯হাজার ৭শত টাকা, মদ ৩৩টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৪৯হাজার ৫শত টাকা এবং বিভিন্ন সামগ্রী, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৩৮হাজার ১শত ৫০টাকাসহ সর্বমোট সিজার ৩লক্ষ ৭হাজার ৩শত ৫০টাকা। এছাড়াও উপরোক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সব সময় আপসহীন। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

















