০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ৭ বছর পর দেখা হবে মা ও ছেলের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৭৩ Time View

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার লন্ডন গমন * বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ছেলে তারেক রহমান * বিদায় জানাতে ঢাকার পথে পথে নেতাকর্মীদের ঢল



উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১০টায় কাতার আমীরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা ছাড়েন তিনি। লন্ডন পৌঁছেই খালেদা জিয়া সরাসরি ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি হবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন ছেলে তারেক রহমান। ৭ বছর পর লন্ডনে মা-ছেলের দেখা হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই তার বাসভবন ও আশপাশে বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। তার বাসভবন থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তারা খালেদা জিয়ার নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অন্যদিকে সন্ধ্যায় গুলশানে ফিরোজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষনেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যা ৬টায় একটি গাড়িতে করে বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি লাগেজ বিমানবন্দরে পাঠানো হয় বলে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার বাহিনীসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরের এলাকাজুড়ে অবস্থান নেন। এ সময় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ রুটে সাধারণ যাত্রী চলাচলের বেশকিছু জায়গায় বিকল্প পথ ব্যবহারের করতে বলা হয়।

সরেজমিন গতকাল সন্ধ্যায় দেখা যায়, ফিরোজার সামনের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি। সেইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সংখ্যাও গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি ছিল। বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার জানান, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় বিমানবন্দর এলাকায় ১০ প্লাটুন পুলিশ রয়েছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বেবিচকের অ্যাফসেক বাহিনীসহ সোয়াটের মতো স্পেশাল টিমও রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রবেশে কড়াকড়ি থাকবে।

জনদুর্ভোগ এড়াতে বিএনপির নির্দেশনা : বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনদুর্ভোগ এড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো- যাতে রাস্তায় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পরের দুই বছর দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী কাটান। নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হলেও পরের চার বছরের বেশি সময় হাসপাতালে কাটে নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার। বারবার আবেদনেও আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ তিনি বিদেশ যান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরের দিনই তার সাজা মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করা খালেদা জিয়া আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এক মামলায় খালাস পেয়েছেন। অন্যটিতে তার সাজা স্থগিত হয়েছে আপিল বিভাগে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হয়েছেন তিনি।

সড়কে নেতাকর্মীর ঢল : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে গুলশান থেকে বিমানবন্দর সড়কে নেতাকর্মীর ঢল নামে। পথে পথে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী। সুস্থ হয়ে দেশের রাজনীতিতে ফিরবেন বেগম জিয়া এমন প্রত্যাশা তাদের।

এখন আলোচনায়

দীর্ঘ ৭ বছর পর দেখা হবে মা ও ছেলের

আপডেট সময় : ০৩:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার লন্ডন গমন * বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ছেলে তারেক রহমান * বিদায় জানাতে ঢাকার পথে পথে নেতাকর্মীদের ঢল



উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৩ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১০টায় কাতার আমীরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা ছাড়েন তিনি। লন্ডন পৌঁছেই খালেদা জিয়া সরাসরি ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি হবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন ছেলে তারেক রহমান। ৭ বছর পর লন্ডনে মা-ছেলের দেখা হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই তার বাসভবন ও আশপাশে বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। তার বাসভবন থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তারা খালেদা জিয়ার নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অন্যদিকে সন্ধ্যায় গুলশানে ফিরোজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষনেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যা ৬টায় একটি গাড়িতে করে বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি লাগেজ বিমানবন্দরে পাঠানো হয় বলে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার বাহিনীসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরের এলাকাজুড়ে অবস্থান নেন। এ সময় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ রুটে সাধারণ যাত্রী চলাচলের বেশকিছু জায়গায় বিকল্প পথ ব্যবহারের করতে বলা হয়।

সরেজমিন গতকাল সন্ধ্যায় দেখা যায়, ফিরোজার সামনের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি। সেইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সংখ্যাও গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি ছিল। বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার জানান, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় বিমানবন্দর এলাকায় ১০ প্লাটুন পুলিশ রয়েছে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বেবিচকের অ্যাফসেক বাহিনীসহ সোয়াটের মতো স্পেশাল টিমও রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রবেশে কড়াকড়ি থাকবে।

জনদুর্ভোগ এড়াতে বিএনপির নির্দেশনা : বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনদুর্ভোগ এড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো- যাতে রাস্তায় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পরের দুই বছর দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী কাটান। নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হলেও পরের চার বছরের বেশি সময় হাসপাতালে কাটে নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার। বারবার আবেদনেও আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ তিনি বিদেশ যান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরের দিনই তার সাজা মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করা খালেদা জিয়া আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এক মামলায় খালাস পেয়েছেন। অন্যটিতে তার সাজা স্থগিত হয়েছে আপিল বিভাগে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হয়েছেন তিনি।

সড়কে নেতাকর্মীর ঢল : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে গুলশান থেকে বিমানবন্দর সড়কে নেতাকর্মীর ঢল নামে। পথে পথে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী। সুস্থ হয়ে দেশের রাজনীতিতে ফিরবেন বেগম জিয়া এমন প্রত্যাশা তাদের।