০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংক্রামক বুলাস ইমপেটিগো রোগে শিশুর কিডনি নষ্টের আশঙ্কা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
  • ৯৫ Time View

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বুলাস ইমপেটিগো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। তবে সঠিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই কারণে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে শিশুদের অভিভাবকদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ১ থেকে ৫ বছরের শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। দিন দিন ছড়িয়ে পড়া বুলাস রোগ সম্পর্কে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তথ্য জানা না থাকলেও চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখা যায়, কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন শিশুকে এই রোগের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের বাবা-মা শিশুদের নতুন এই রোগের সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাদের শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ব্যাকটেরিয়াজনিত বুলাস ইমপেটিগো ভাইরাস রোগ হওয়ায় সহসায় নিরাময় হচ্ছে না। ফলে শিশুদের সারা শরীরে লালচে আকার ধারণ করে। পরে আস্তে আস্তে ফোসকায় রূপান্তরিত হয়ে ক্ষত স্থান থেকে পুঁজ বের হয়। যার কারণে বেশির ভাগ শিশুর শরীর চুলকাতে থাকে। তারা আরো জানান, বুলাস ইমপেটিগো ছোঁয়াচে রোগ এক শিশু থেকে আরেক শিশু আক্রান্ত করতে বেশি সময় নেয় না।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই রোগে চিকিৎসা নিতে আসা মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের ছালমা আকতার বলেন, আমার তিন বছরের মেয়ে মারিয়া কোরবানি ঈদের আগ থেকে শরীরের গোটা জাতীয় বিচি দেখা দেয়। শিশুটি তার শরীরকে সারা দিন চুলকাতে থাকে। যন্ত্রণায় সারা দিন চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। প্রথমে শরীরের অল্প কিছু অংশে এই রোগের দেখা দিলেও পর্যায়ক্রমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে এলে তিনি বলেন বুলাস ইমপেটিগো রোগে আমার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দেখি আমার শিশুর মতো আরো অনেক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

ফেলনা গ্রামে রুনা বেগম বলেন, আমার সাড়ে তিন বছরের মেয়ের শরীর গত ২০ দিন পচনশীল গোটা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রাতে যন্ত্রণায় সে ঘুমাতে পারে না। প্রাথমিকভাবে পল্লী চিকিৎক দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলাম। দিন দিন তার পুরো শরীর ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চৌদ্দগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়েছি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর চিকিৎসক সামছুল ইসলাম রানা বলেন, শিশুদের শরীরে বর্তমানে বুলাস ইমপেটিগো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফারুক আহমেদ বলেন, বুলাস ইমপেটিগো একটি ছোঁয়াছে রোগ। এই রোগে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন এই রোগের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন আক্রান্ত হলে তার আশপাশে যারা থাকবে সবাই এই রোগে আক্রান্ত হবে। এই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়ার উপায় হলো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা। আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি পাশে অবস্থানকারীরাও আক্রান্ত হবে। ডাক্তার ফারুক আরো বলেন, জনসচেতনতা না হলে এই রোগের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তিনি আরো বলেন, শরীরে এই রোগ দীর্ঘদিন অবস্থান করলে ওই রোগীর কিডনি আক্রান্ত হবে। শরীরে পানি আসবে এতে করে শরীরে নানা ধরনের রোগ আরো দেখা দেবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এই রোগ সম্পর্কে আবাসিক চিকিৎসক হাসান মাহমুদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই রোগে আক্রান্ত কতজন রোগী প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে তার তথ্য আমার জানা নেই।

Tag :
এখন আলোচনায়

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনার হারে যুবকের আত্মহত্যা, পিতৃহারা দুই শিশুকে ঘিরে শোক

সংক্রামক বুলাস ইমপেটিগো রোগে শিশুর কিডনি নষ্টের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বুলাস ইমপেটিগো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। তবে সঠিক কোনো তথ্য জানাতে পারেননি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই কারণে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে শিশুদের অভিভাবকদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ১ থেকে ৫ বছরের শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। দিন দিন ছড়িয়ে পড়া বুলাস রোগ সম্পর্কে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তথ্য জানা না থাকলেও চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখা যায়, কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন শিশুকে এই রোগের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের বাবা-মা শিশুদের নতুন এই রোগের সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাদের শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ব্যাকটেরিয়াজনিত বুলাস ইমপেটিগো ভাইরাস রোগ হওয়ায় সহসায় নিরাময় হচ্ছে না। ফলে শিশুদের সারা শরীরে লালচে আকার ধারণ করে। পরে আস্তে আস্তে ফোসকায় রূপান্তরিত হয়ে ক্ষত স্থান থেকে পুঁজ বের হয়। যার কারণে বেশির ভাগ শিশুর শরীর চুলকাতে থাকে। তারা আরো জানান, বুলাস ইমপেটিগো ছোঁয়াচে রোগ এক শিশু থেকে আরেক শিশু আক্রান্ত করতে বেশি সময় নেয় না।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই রোগে চিকিৎসা নিতে আসা মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের ছালমা আকতার বলেন, আমার তিন বছরের মেয়ে মারিয়া কোরবানি ঈদের আগ থেকে শরীরের গোটা জাতীয় বিচি দেখা দেয়। শিশুটি তার শরীরকে সারা দিন চুলকাতে থাকে। যন্ত্রণায় সারা দিন চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। প্রথমে শরীরের অল্প কিছু অংশে এই রোগের দেখা দিলেও পর্যায়ক্রমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে এলে তিনি বলেন বুলাস ইমপেটিগো রোগে আমার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দেখি আমার শিশুর মতো আরো অনেক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

ফেলনা গ্রামে রুনা বেগম বলেন, আমার সাড়ে তিন বছরের মেয়ের শরীর গত ২০ দিন পচনশীল গোটা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রাতে যন্ত্রণায় সে ঘুমাতে পারে না। প্রাথমিকভাবে পল্লী চিকিৎক দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলাম। দিন দিন তার পুরো শরীর ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চৌদ্দগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়েছি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর চিকিৎসক সামছুল ইসলাম রানা বলেন, শিশুদের শরীরে বর্তমানে বুলাস ইমপেটিগো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফারুক আহমেদ বলেন, বুলাস ইমপেটিগো একটি ছোঁয়াছে রোগ। এই রোগে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন এই রোগের আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন আক্রান্ত হলে তার আশপাশে যারা থাকবে সবাই এই রোগে আক্রান্ত হবে। এই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়ার উপায় হলো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা। আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি পাশে অবস্থানকারীরাও আক্রান্ত হবে। ডাক্তার ফারুক আরো বলেন, জনসচেতনতা না হলে এই রোগের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তিনি আরো বলেন, শরীরে এই রোগ দীর্ঘদিন অবস্থান করলে ওই রোগীর কিডনি আক্রান্ত হবে। শরীরে পানি আসবে এতে করে শরীরে নানা ধরনের রোগ আরো দেখা দেবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এই রোগ সম্পর্কে আবাসিক চিকিৎসক হাসান মাহমুদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই রোগে আক্রান্ত কতজন রোগী প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে তার তথ্য আমার জানা নেই।