
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এনজিওর টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মর্জিনা খাতুনকে (৩৪) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার বাবা। রোববার দিনগত রাত ১ টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মর্জিনা খাতুন একই এলাকার আজিজুল হকের মেয়ে। এঘটনার প্রতিবাদ করায় তার নাতনি পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেখছোনা খাতুনকে (১৩) কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত রেখছোনা খাতুনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আজিজুল হক পালিয়ে যায়। তাকে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
নিহত মর্জিনা খাতুনের বোনের ছেলে হুসাইন বলেন, আমার খালার দুইবার বিয়ে হয়েছে। খালু আমার খালাকে দেখাশোনা না করায় দুই সংসারের দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে খালা তার বাবার বাড়িতে থাকে। মেয়ে রেখছোনা বাঘাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীতে পড়ে এবং ছোট ছেলে জিহাদের বয়স ৭ বছর।
হুসাইন আরও বলেন, আমার নানা ও খালা দু’জন মিলে বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন তুলে ঘর তৈরি করে। ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে শনিবার রাতে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। খালা তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১ টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ডাক দেয় আমার নানা আজিজুল হক। খালা ঘরের বাইরে বের হওয়া মাত্র তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘরের সামনে কলপাড়ের গর্তের ভিতর ফেলে দেয়।
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মর্জিনা খাতুন ও রেখছোনা খাতুনকে কোপানো। হয়েছে। এঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার আগেই মর্জিনা খাতুন মারা গেছে। আহত রেখছোনাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
গতকাল মর্জিনা খাতুনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রাত ৯ টার দিকে বাঘাডাঙ্গার কবরস্থানে লাশের দাফণকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। খুনি আজিজুল হক পলাতক আছে। তাকে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে
প্রতিনিধির নাম 
























