
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. তাওহীদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় মালামাল ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ১ আগস্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার মো. কছির উদ্দিনের ছেলে মো. হাবিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের প্রায় এক মাস পর স্টক রেজিস্টার যাচাই করে অপারেশন থিয়েটার থেকে কিছু সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং স্টোররুম থেকে কয়েক ধরনের ওষুধের হিসাব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলা ও মালামালের হিসাব না মেলার অভিযোগে ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তাওহীদ আরও দাবি করেন, অব্যাহতির পর হাবিব মালামালের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া এবং চুরির ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানের জন্য ১৫ দিনের সময় চান।
লিখিত বক্তব্যে পরিচালক অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি জরুরি কাজে ক্লিনিকের বাইরে গেলে ওই সুযোগে হাবিব প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ক্যাশে রাখা ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। তাঁর দাবি, অর্থ চুরির বিষয়টি আড়াল করতে পরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অ্যান্টিবায়োটিক ও গ্যাসের ইনজেকশনের খালি অ্যাম্পুল ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়।
এ ছাড়া হাবিব সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন এবং শরীরে সার্জিক্যাল সামগ্রী বেঁধে পালানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে চুরি হওয়া ৫ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ রানা, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 


















