
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিরূপণ ও জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বুড়িমারী স্থলবন্দরের কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাকসেলেরেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (অ্যাকসেস) বাংলাদেশ ফেইজ-১ (বিএলপিএ কমপোনেন্ট)’ প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দীপ জন মিত্র। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন।
জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের প্রধান কর্মকর্তা ড. মো. আমিনুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করা হলে জনগণের ভোগান্তি কমবে। জমির পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় থাকা গাছপালা, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনার তথ্যও সঠিকভাবে সংগ্রহ ও মূল্যায়ন করা হবে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
বুড়িমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাহিদ ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি স্থানীয়দের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন বলেন, স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী তাঁরা প্রায় ৪ লাখ টাকা শতক দরে জমি কিনেছেন। অথচ সরকারি মৌজা মূল্য যদি মাত্র ২১ হাজার টাকা শতক নির্ধারণ করা হয়, তাহলে জমির মালিকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তিনি বলেন, ‘এভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হলে আমরা কোথায় যাব?’ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব বাজারমূল্য বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী রিপন মিয়া বলেন, তাঁরা প্রায় ৪ লাখ টাকা শতক দরে জমি কিনেছেন এবং ওই জমিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকারি হিসাবে জমির মূল্য অনেক কম নির্ধারণ করা হলে তাঁরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তিনি বলেন, ‘এটুকুই আমার সম্পদ। ন্যায্য মূল্য না পেলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।’
সভায় স্থানীয় ভূমির মালিকেরা জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্য, জমির শ্রেণি, গাছপালা, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনার প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের স্বার্থ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সভায় প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক প্রভাব, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।
মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট 


















