০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে আজ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ Time View

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলার এই আয়োজনকে বলা হয় ‘এশিয়ার অলিম্পিক’। খেলাধুলার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্য বাড়ানোও এই আসরের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৫১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রথমবার বসেছিল এশিয়ান গেমসের আসর।

সময়ের সঙ্গে পরিধি বেড়েছে এই প্রতিযোগিতার। এবার ২০তম এশিয়ান গেমসের আয়োজক জাপানের আইচি নাগোয়া শহর। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ৪৩টি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা হবে ৫৪টি ভেন্যুতে। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে।

তাদের মধ্যে ৯০ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী। মোট ৪৩টি খেলার মধ্যে ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। ক্রিকেট, কাবাডি, শুটিং ও আরচারিসহ হকি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ফেন্সিং ও অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও থাকছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব।

আসরে ফুটবল ও কিছু ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা মূল উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মাঠে নেমেছেন ক্রীড়াবিদ। আসর এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর প্রতিযোগিতাও শুরু হবে। প্রতিটি ডিসিপ্লিনেই বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করা। বিশেষ করে যেসব ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেসব জায়গায় নজর থাকবে বেশি।

বাংলাদেশের পদকের প্রত্যাশার বড় জায়গা কাবাডি। এশিয়ান গেমসে ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাস। পুরুষ কাবাডি দল ১৯৯০ বেইজিং, ১৯৯৪ হিরোশিমা ও ২০০২ বুসান এশিয়ান গেমসে রুপার পদক জিতেছিল। এ ছাড়া ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৪ সালের আসরে বাংলাদেশ কাবাডি থেকে ব্রোঞ্জ পেয়েছে। ফলে এবারও কাবাডিকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকছে।

ক্রিকেটেও বাংলাদেশের রয়েছে সোনালি স্মৃতি। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পুরুষ দলই জিতে নেয় স্বর্ণ। ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেই সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ।

একই আসরে নারী ক্রিকেট দল জেতে রুপা। ওই আসরে বাংলাদেশ মোট তিনটি পদক পায়। একটি স্বর্ণ, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল। এবারও ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ দুই দলই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি সামনে রেখে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

শুটিং ও আরচারিতেও বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের দিকে থাকবে নজর। বিশেষ করে শুটিংয়ে অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পারফরম্যান্সের কারণে পদকের প্রত্যাশা রয়েছে। দেশের শীর্ষ শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন। তার সঙ্গে পতাকাবাহক হিসেবে থাকবেন কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। দুই অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদের হাতে দেশের পতাকা বহন করাও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের জন্য বিশেষ মুহূর্ত।

এদিকে হকিতেও শুরু হয়েছে বাংলাদেশের অভিযান। পুরুষ দল প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে। সামনে রয়েছে আরও ম্যাচ। নারী হকি দলও এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে। ফুটবলের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মাঠের লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের জন্য এবারের এশিয়ান গেমস তাই একদিকে পুরোনো সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন ডিসিপ্লিনে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ।

১৮৭ ক্রীড়াবিদ ২২টি ডিসিপ্লিনে লড়াই করে দেশের জন্য সাফল্য এনে দেওয়ার লক্ষ্যেই নামবেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে। তাদের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে এবারের আসরে বাংলাদেশের পদকের ঝুলি কতটা সমৃদ্ধ হয়।

Tag :

এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে আজ

আপডেট সময় : ০৩:২৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলার এই আয়োজনকে বলা হয় ‘এশিয়ার অলিম্পিক’। খেলাধুলার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্য বাড়ানোও এই আসরের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৫১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রথমবার বসেছিল এশিয়ান গেমসের আসর।

সময়ের সঙ্গে পরিধি বেড়েছে এই প্রতিযোগিতার। এবার ২০তম এশিয়ান গেমসের আয়োজক জাপানের আইচি নাগোয়া শহর। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ৪৩টি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা হবে ৫৪টি ভেন্যুতে। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে।

তাদের মধ্যে ৯০ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী। মোট ৪৩টি খেলার মধ্যে ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। ক্রিকেট, কাবাডি, শুটিং ও আরচারিসহ হকি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ফেন্সিং ও অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও থাকছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব।

আসরে ফুটবল ও কিছু ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা মূল উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মাঠে নেমেছেন ক্রীড়াবিদ। আসর এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর প্রতিযোগিতাও শুরু হবে। প্রতিটি ডিসিপ্লিনেই বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করা। বিশেষ করে যেসব ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেসব জায়গায় নজর থাকবে বেশি।

বাংলাদেশের পদকের প্রত্যাশার বড় জায়গা কাবাডি। এশিয়ান গেমসে ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাস। পুরুষ কাবাডি দল ১৯৯০ বেইজিং, ১৯৯৪ হিরোশিমা ও ২০০২ বুসান এশিয়ান গেমসে রুপার পদক জিতেছিল। এ ছাড়া ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৪ সালের আসরে বাংলাদেশ কাবাডি থেকে ব্রোঞ্জ পেয়েছে। ফলে এবারও কাবাডিকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকছে।

ক্রিকেটেও বাংলাদেশের রয়েছে সোনালি স্মৃতি। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পুরুষ দলই জিতে নেয় স্বর্ণ। ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেই সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ।

একই আসরে নারী ক্রিকেট দল জেতে রুপা। ওই আসরে বাংলাদেশ মোট তিনটি পদক পায়। একটি স্বর্ণ, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল। এবারও ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ দুই দলই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি সামনে রেখে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

শুটিং ও আরচারিতেও বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের দিকে থাকবে নজর। বিশেষ করে শুটিংয়ে অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পারফরম্যান্সের কারণে পদকের প্রত্যাশা রয়েছে। দেশের শীর্ষ শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন। তার সঙ্গে পতাকাবাহক হিসেবে থাকবেন কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। দুই অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদের হাতে দেশের পতাকা বহন করাও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের জন্য বিশেষ মুহূর্ত।

এদিকে হকিতেও শুরু হয়েছে বাংলাদেশের অভিযান। পুরুষ দল প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে। সামনে রয়েছে আরও ম্যাচ। নারী হকি দলও এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে। ফুটবলের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মাঠের লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের জন্য এবারের এশিয়ান গেমস তাই একদিকে পুরোনো সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন ডিসিপ্লিনে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ।

১৮৭ ক্রীড়াবিদ ২২টি ডিসিপ্লিনে লড়াই করে দেশের জন্য সাফল্য এনে দেওয়ার লক্ষ্যেই নামবেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে। তাদের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে এবারের আসরে বাংলাদেশের পদকের ঝুলি কতটা সমৃদ্ধ হয়।