০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডাকে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৫৭ Time View

কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না : ট্রুডো

 গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বৈঠকে ডেনমার্কের রাজা



দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসাবে জয়ী হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য কানাডাকে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত করা। গত নভেম্বরে জেতার পর থেকে এই বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর মাত্র সপ্তাহ দু’য়েক বাদেই হোয়াইট হাউজের মসনদে বসবেন। আর এর আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমেরিকার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। যদিও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। এদিকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর বৈঠক করেছেন ডেনমার্কের রাজা।

ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, পুরো কানাডাই আমেরিকার অংশ হয়ে গেছে। সমপ্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা হবে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক শক্তির জোরেই কানাডাকে আমেরিকার অন্তর্গত করা হবে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি এর আগে আমেরিকা এবং কানাডার মধ্যে থাকা সীমারেখাকে কৃত্রিম একটি রেখা বলে দাবি করেন।

ট্রুডোর প্রতিবাদ: ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা একে অপরকে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগী। এতে দুই দেশের কর্মী ও সমাজ উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবো না।’ সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রুডো। এর আগে মঙ্গলবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জলি ট্রাম্পের দাবি সম্পর্কে বলেন, আমরা কোনো হুমকির মুখে মাথা নত করব না। আমেরিকা বোঝে না কানাডার শক্তি ঠিক কতটা। অন্যদিকে ট্রাম্পের পানামা খালের দখল নেওয়ার দাবিকেও নস্যাৎ করা হয়েছে। পানামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাভির মার্টিনেজ বলেন, শুধু পানামাবাসীদের হাতে থাকবে পানামার নিয়ন্ত্রণ।

এদিকে ডেনমার্কের রাজার সঙ্গে বৈঠক করতে মঙ্গলবার কোপেনহেগেনে পৌঁছেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেডে। যদিও সেখানে পৌঁছানোর আগেই রাজার সঙ্গে তার বৈঠক বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ডেনমার্কের রাজকীয় আদালত বলেছেন, ডেনমার্কে রাজা ফ্রেডরিকের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি ডেনমার্কের রাজকীয় আদালত। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানানোর জন্য তিনি ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি কিংবা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। একই দিনে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল ভ্রমণে গেছেন ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। -সিএনএন ও রয়টার্স

Tag :
এখন আলোচনায়

কানাডাকে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫

কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না : ট্রুডো

 গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বৈঠকে ডেনমার্কের রাজা



দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসাবে জয়ী হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য কানাডাকে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত করা। গত নভেম্বরে জেতার পর থেকে এই বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর মাত্র সপ্তাহ দু’য়েক বাদেই হোয়াইট হাউজের মসনদে বসবেন। আর এর আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমেরিকার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। যদিও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। এদিকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর বৈঠক করেছেন ডেনমার্কের রাজা।

ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, পুরো কানাডাই আমেরিকার অংশ হয়ে গেছে। সমপ্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা হবে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক শক্তির জোরেই কানাডাকে আমেরিকার অন্তর্গত করা হবে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি এর আগে আমেরিকা এবং কানাডার মধ্যে থাকা সীমারেখাকে কৃত্রিম একটি রেখা বলে দাবি করেন।

ট্রুডোর প্রতিবাদ: ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা একে অপরকে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগী। এতে দুই দেশের কর্মী ও সমাজ উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবো না।’ সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রুডো। এর আগে মঙ্গলবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জলি ট্রাম্পের দাবি সম্পর্কে বলেন, আমরা কোনো হুমকির মুখে মাথা নত করব না। আমেরিকা বোঝে না কানাডার শক্তি ঠিক কতটা। অন্যদিকে ট্রাম্পের পানামা খালের দখল নেওয়ার দাবিকেও নস্যাৎ করা হয়েছে। পানামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাভির মার্টিনেজ বলেন, শুধু পানামাবাসীদের হাতে থাকবে পানামার নিয়ন্ত্রণ।

এদিকে ডেনমার্কের রাজার সঙ্গে বৈঠক করতে মঙ্গলবার কোপেনহেগেনে পৌঁছেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেডে। যদিও সেখানে পৌঁছানোর আগেই রাজার সঙ্গে তার বৈঠক বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ডেনমার্কের রাজকীয় আদালত বলেছেন, ডেনমার্কে রাজা ফ্রেডরিকের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি ডেনমার্কের রাজকীয় আদালত। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানানোর জন্য তিনি ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি কিংবা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। একই দিনে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল ভ্রমণে গেছেন ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। -সিএনএন ও রয়টার্স