১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাঁশের খুঁটি ও খড়ের চাল থেকে পথচলা শুরু

শতবর্ষ পেরিয়ে দর্শনার শিক্ষার আলোকবর্তিকা মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়

একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষ আর পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে প্রজন্মের স্বপ্ন, জ্ঞান ও মূল্যবোধ। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় শতবর্ষ পেরিয়ে আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামে একসময় শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন শিক্ষানুরাগী স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাস।

তাঁর উদ্যোগে এবং স্থানীয় কয়েকজন সমমনা ব্যক্তির সহযোগিতায় ১৯১৬ সালে দর্শনা এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯১২ থেকে ১৯১৩ সালের দিকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক চিন্তা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ‘বি.ডি.’—যা বিপ্রদাস নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ছিল অত্যন্ত সাধারণ। বাঁশের খুঁটি, খড়ের চাল ও চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরেই চলত পাঠদান। বৃষ্টি, রোদ কিংবা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের শিক্ষার আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

পরবর্তীতে এলাকার দানশীল ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ধীরে ধীরে উন্নত হয়। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের ফলেই প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি

প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই বিদ্যালয়টি প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির স্বাক্ষর রাখে। ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় একটি মফস্বল এলাকার বিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জন ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে চলেছে।

ইতিহাসের নানা বাঁকের সাক্ষী

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপমহাদেশের নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পাকিস্তান আমল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে।

দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধকালীন নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও অঙ্গীকার বজায় ছিল।

এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র

বিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বের আরেকটি দিক হলো এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে এর দীর্ঘদিনের ভূমিকা। ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৮৩ নম্বর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানা যায়।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রটি এলাকার মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে ঐতিহ্য

শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, আন্তঃবিদ্যালয় প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা, স্কাউটিং এবং মানবিক কার্যক্রমের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমের চর্চা রয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান

একটি শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় সম্পদ তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, বিচার বিভাগ, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসা এবং সামরিক ও বেসামরিক চাকরিসহ বিভিন্ন পেশায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান রয়েছে। অনেক পরিবারের একাধিক প্রজন্ম এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, বহু পরিবারের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

শতবর্ষ পেরিয়ে নতুন প্রত্যাশা

২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করে। একশ বছরের পথচলা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরবের পাশাপাশি দায়িত্বেরও বিষয়। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ী প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছেন।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞানমনস্কতা, নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। তাই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাও প্রতিষ্ঠানটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

বাঁশের খুঁটি ও খড়ের চালের সাধারণ অবকাঠামো থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও ভালোবাসা। প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাসসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের অবদান এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় শুধু দর্শনার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শত বছরের অর্জনকে ধারণ করে আগামী দিনেও বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

ঢাকায় ভারী বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতা-যানজটের আশঙ্কা

বাঁশের খুঁটি ও খড়ের চাল থেকে পথচলা শুরু

শতবর্ষ পেরিয়ে দর্শনার শিক্ষার আলোকবর্তিকা মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষ আর পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে প্রজন্মের স্বপ্ন, জ্ঞান ও মূল্যবোধ। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় শতবর্ষ পেরিয়ে আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামে একসময় শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন শিক্ষানুরাগী স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাস।

তাঁর উদ্যোগে এবং স্থানীয় কয়েকজন সমমনা ব্যক্তির সহযোগিতায় ১৯১৬ সালে দর্শনা এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯১২ থেকে ১৯১৩ সালের দিকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক চিন্তা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ‘বি.ডি.’—যা বিপ্রদাস নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ছিল অত্যন্ত সাধারণ। বাঁশের খুঁটি, খড়ের চাল ও চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরেই চলত পাঠদান। বৃষ্টি, রোদ কিংবা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের শিক্ষার আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

পরবর্তীতে এলাকার দানশীল ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ধীরে ধীরে উন্নত হয়। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের ফলেই প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি

প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই বিদ্যালয়টি প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির স্বাক্ষর রাখে। ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় একটি মফস্বল এলাকার বিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জন ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার প্রসার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে চলেছে।

ইতিহাসের নানা বাঁকের সাক্ষী

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপমহাদেশের নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পাকিস্তান আমল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে।

দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধকালীন নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও অঙ্গীকার বজায় ছিল।

এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র

বিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বের আরেকটি দিক হলো এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে এর দীর্ঘদিনের ভূমিকা। ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৮৩ নম্বর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানা যায়।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রটি এলাকার মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে ঐতিহ্য

শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, আন্তঃবিদ্যালয় প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা, স্কাউটিং এবং মানবিক কার্যক্রমের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমের চর্চা রয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান

একটি শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় সম্পদ তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, বিচার বিভাগ, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসা এবং সামরিক ও বেসামরিক চাকরিসহ বিভিন্ন পেশায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান রয়েছে। অনেক পরিবারের একাধিক প্রজন্ম এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, বহু পরিবারের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

শতবর্ষ পেরিয়ে নতুন প্রত্যাশা

২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করে। একশ বছরের পথচলা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরবের পাশাপাশি দায়িত্বেরও বিষয়। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ী প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছেন।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞানমনস্কতা, নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। তাই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাও প্রতিষ্ঠানটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

বাঁশের খুঁটি ও খড়ের চালের সাধারণ অবকাঠামো থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও ভালোবাসা। প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাসসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের অবদান এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় শুধু দর্শনার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শত বছরের অর্জনকে ধারণ করে আগামী দিনেও বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।