
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব চত্বরে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবে ফিরে আসে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও চুয়াডাঙ্গার সাংবাদিকতার ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল আরেফিন ও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক সরদার আল-আমিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি। পরে আমন্ত্রিত অতিথি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার চর্চায় ভূমিকা রেখে চলেছে। জেলার বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও সংকটে প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল হক স্বপন বলেন, প্রেসক্লাবকে আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ তহবিলে ৫০ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের অসুস্থতা ও অন্যান্য প্রয়োজনে সহায়তার জন্য পৃথক একটি তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রেসক্লাব ভবনের চতুর্থ তলায় একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রেসক্লাবের তহবিলে ৬ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, মূলধারার সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কিছু ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, সাংবাদিকতার জ্যেষ্ঠদের নতুন প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিকদের বিপদে-আপদে প্রেসক্লাব পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষের কাছে অপ্রকাশিত বিষয়গুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে অপপ্রচার বন্ধ করে সবাইকে সত্য ও ইতিবাচকতার পথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ভবনের নির্মাণ ও কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সাংবাদিকদের যেকোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
এর আগে প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার, জীবননগর প্রেসক্লাব ও দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শাজাহান মুকুল, অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান ও সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিফাত রহমান, রফিক রহমান, মাহফুজ উদ্দিন খান, মিজানুল হক, রানা কাদির, মশিউর রহমান মিশু, জামান আকতার, রেজাউল করিম লিটন, আলমগীর কবির শিপলু, পলাশ উদ্দিন, জহির রায়হান সোহাগ, শামসুজ্জোহা রানা, খায়রুজ্জামান সেতু, আহসান আলম, রুবায়েত বিন আজাদ সুস্থির, আলমগীর রনি, মুন্না রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 



















